
দুই মাস কারাভোগ শেষে মুক্তি পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শামসুন্নাহার হল ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) ও টিএসসিভিত্তিক সংগঠন স্লোগান’৭১ এ সাবেক সধারণ সম্পাদক শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি। হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে আমরা যেমন ধারণ করব, তেমনি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাকেও একইভাবে ধারণ করতে হবে।
জানা যায়, আজ দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে ইমিতে মুক্তি দেয় মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। পরে জেলার শিরিন আক্তার এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, জামিনের কাগজ কারাগারে পৌঁছালে সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
কারাগার থেকে বের হয়ে ইমি আরও বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা কিংবা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ঘিরে দুই দলের এই বিভাজনের কারণেই আজ দেশ পিছিয়ে আছে। আজও আমরা মালয়েশিয়ার মতো জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি।
তিনি বলেন, আমি আসলে কী এমন করেছিলাম? আমি যেভাবে পরিবারকে রেখে গিয়েছিলাম, সেভাবে তো আর তাদের কাছে ফিরতে পারব না। এই সময়ে আমাকে অনেক কিছু হারাতে হয়েছে। মাস্টার্স পরীক্ষার কারণে আমার বিয়ে পিছিয়েছিল, অথচ সেই পরীক্ষাটাই আর দিতে পারছি না। আমার মেজো ভাইকে আমি আর কোনোদিন দেখতে পাব না।
‘এই মূল্য কতটা কঠিন, সেটা আমি জানি। যাদের মিথ্যা মামলায় জেলে যেতে হয়, তারাও জানে।’
তিনি আরও বলেন, আমি সরকারের কাছে আহ্বান জানাব—তারা যেন আরও সহিষ্ণু আচরণ করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেন সবাইকে একভাবে না দেখে, কার কী ভূমিকা ছিল, কে কতটুকু অপরাধ করেছে, সেটি বিবেচনায় নিয়েই শাস্তি দেওয়া উচিত।
‘অন্তত পুলিশি হয়রানির মাধ্যমে মিথ্যা মামলায় কাউকে ভোগানো উচিত নয়। বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে এটি আমার কাছে অত্যন্ত অভিশপ্ত একটি অভিজ্ঞতা,’ যোগ করেন তিনি।
ইমি বলেন, আমি এখনো দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমি এমন কিছু করিনি, যার জন্য আমাকে এতদিন বন্দি থাকতে হলো।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গত ৩০ এপ্রিল ইমিকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট।












































