
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রদলের এক নেতাকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করা হয়েছে। আটক ছাত্রদল নেতার নাম আব্দুল্লাহ আল সাকিফ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
রোববার (২৪ মে) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, তার বাসায় তাকে এক নারীসহ আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়া যায়। তারা জানান, কয়েকজন যুবক সাকিফকে অনুসরণ করে তার বাসায় যায়। এরপর বাসায় ঢুকে সাকিফকে ওই নারীর সঙ্গে অশালীন অবস্থায় দেখতে পায় তারা।
তবে অভিযুক্ত সাকিফ দাবি করেছেন, এটি কোনো অনৈতিক ঘটনা নয় বরং পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।
আব্দুল্লাহ আল সাকিফ বলেন, ‘গতকাল রাতে আমি ও আমার এক নারীবন্ধু বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে টিকিট কাটি। ডিনার শেষে আমি কাপড়চোপড় আনতে বাসায় গেলে কয়েকজন স্থানীয় ছেলে আমাকে অনুসরণ করে। এর আগেও জোবরা সংঘর্ষের ঘটনায় তারা আমাকে হুমকি দিয়েছিল। বন্ধুর নিরাপত্তার কথা ভেবে তাকে বাসায় বসতে বলি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ফ্রেশ হতে ওয়াশরুমে গেলে ২-৩ মিনিটের মধ্যে তারা বাসায় উঠে আসে। প্রথমে স্বাভাবিকভাবে কথা বললেও পরে উত্তেজিত হয়ে আমাকে মারধর করতে চায়। পরিস্থিতি দেখে দরজা বন্ধ করলে তারা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আমাকে মারধর করে, কাপড় খুলে ছবি-ভিডিও নেয়। তখন মনে হচ্ছিল আমি বাঁচব না।’
তিনি বলেন, ‘তারা আমার মানিব্যাগ, আইডি কার্ড, ল্যাপটপ এবং আমার বন্ধুর ব্যাগ, টাকা ও ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেয়। পরে প্রক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ভাই এসে আমাকে উদ্ধার করে মেডিকেলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। আজ ঘুম থেকে উঠে দেখি বিভিন্ন পেইজে আমাদের নিয়ে কুৎসা রটানো হচ্ছে। জোবরা সংঘর্ষের ক্ষোভ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. কামরুল হোসেন বলেন, ‘ছেলেটার বাসা ছিল সেখানে। তারা নাকি সারাদিন একসঙ্গে ঘোরাফেরা করেছিল। ব্যাগ নেওয়ার জন্য ওই বাসায় গেলে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করে। আমরা গতকাল রাত পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছি। এখন তদন্ত করে দেখা হবে কেন সেখানে গিয়েছিল, কীভাবে পুরো ঘটনাটি ঘটেছে সবকিছু ‘খতিয়ে দেখা হবে।’
সূত্র : কালবেলা












































