
২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই ধাপে ধাপে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের পরিকল্পনা রয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে নীতিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।
এদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর পর বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
যদিও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা কী ধরনের সুবিধা পাবেন, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি। তবে তারা নবম পে-স্কেলের আওতায় আসবেন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, বিদ্যমান সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় থাকায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও অবশ্যই নবম জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত হবেন।
জানা গেছে, নতুন সরকারি বেতন কমিশনের সুপারিশে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে ১৩তম গ্রেডভুক্ত শিক্ষকদের বর্তমান ১১ হাজার টাকা মূল বেতন দ্বিগুণ করার সুপারিশ রয়েছে। পাশাপাশি ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। টিফিন ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন পে-স্কেল নিয়ে যেমন আশাবাদ তৈরি হয়েছে, তেমনি রয়েছে শঙ্কাও। নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পর তাদের বেতন-ভাতা কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। এতে উদ্বেগে রয়েছেন কয়েক লাখ শিক্ষক-কর্মচারী।
এ বিষয়ে নানা সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় থাকা সব কর্মকর্তা-কর্মচারীই নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ, নতুন কাঠামো কার্যকর হলে বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধাও ধাপে ধাপে সমন্বয় করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিব বলেন, সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় যারা সরকারের কাছ থেকে বেতন পান, নতুন পে-স্কেল অনুমোদিত হলে তাদের সবাইকে সেই কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে। এখানে বৈষম্যের কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও জানান, নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির চাপ, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং কর্মচারীদের আর্থিক সক্ষমতার বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সরকার নতুন পে-স্কেল প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
আরও জানা গেছে, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন বাড়বে—এটি প্রায় নিশ্চিত। মূল বেতন বাড়লে বাড়ি ভাড়ার ভাতাও বাড়তে পারে। বর্তমানে সাড়ে ৭ শতাংশ হারে দেওয়া বাড়ি ভাড়া ভাতা ১৫ শতাংশে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চিকিৎসা ভাতা আপাতত অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও সবকিছুই নির্ভর করছে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের ওপর।












































