
ক্রীড়ার মহাযজ্ঞ ফুটবল বিশ্বকাপ। এই টুর্নামেন্ট এলেই উত্তাপ বেড়ে যায় গোটা দুনিয়ার ভক্ত-সমর্থকদের। আর এক যুগ ধরে বিশ্বকাপ এলে চায়ের স্টল থেকে শুরু করে অলি-গলির সব আড্ডায় উঠে আসে ‘সেভেন আপ’-এর গল্প। যে গল্পের নির্মাতা এক সময়ে বিশ্ব ফুটবলের ‘পাওয়ার হাউস’ খ্যাত জার্মানি।
শেষবার বিশ্বকাপে জার্মানি ৭-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতেছিল ১২ বছর আগে। সেই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আয়োজক ব্রাজিলকে এই ব্যবধানেই হারিয়েছিল তারা। এরপর কেটে গেছে আরও দুটি বিশ্বকাপ। যেখানে চরম বাজে সময় কেটেছে এই জার্মানির। এবার সেই চৌদ্দ বিশ্বকাপের ফলাফল নিয়েই ফিরল জার্মানি। হিউস্টনে কুরাসাওকে আজ ৭-১ গোলে হারাল জার্মানি। আর তাতেই যেন দীর্ঘ ১২ বছর পর ‘বন্ধু’ পেল ব্রাজিল।
রূপকথার গল্পই বলা যায়। পুরো দেশের জনসংখ্যা মাত্র দেড় লাখ। সেই দেশটিই এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ঠাঁই করে নিয়েছে। শুধু তাই নয়? আজ নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে খেলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে বৈশ্বিক এই আসরে নামও লেখাল দ্বীপ রাষ্ট্রটি।
স্বপ্নের যোগ্যতা অর্জন পর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করে তারা। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই রূঢ় বাস্তবের মুখোমুখি হতে হল। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বর এবং চারবারের বিশ্বজয়ী জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচ যে সহজ হবে না এটা অতি বড় কুরাসাও সমর্থকও বুঝতে পেরেছিলেন। তবে সাত গোল খেতে হবে এটা অনেকেই ভাবতে পারেননি। এত গোল হজম করার পরেও কুরাসাওকে একটি মুহূর্তের জন্যও নেতিবাচক ফুটবল খেলতে দেখা যায়নি। বল পেলেই তারা প্রতি আক্রমণে উঠে গোল করার চেষ্টা করেছে।
কিন্তু জার্মানি ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। জুলিয়ান নাগেলসমানের দল ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে প্রথম এগিয়ে যায়। ফ্লোরিয়ান ভির্টজের নিখুঁত পাস থেকে গোল করে জার্মানিকে এগিয়ে দেন ফেলিক্স নেমেচা। তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ভীত না হয়ে পাল্টা লড়াই চালিয়ে যায় কুরাসাও। ২১ মিনিটেই জেরেমি লোকাদিয়ার শট প্রতিহত হওয়ার পর ফিরতি বলে কোমেনেনসিয়ার নেয়া শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক বদলে জালে জড়িয়ে যায়। তাতেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোলের দেখা পায় কুরাসাও এবং জার্মানির বিপক্ষে ১-১ সমতায় ফেরে ম্যাচ।
সমতায় ফেরার পরই যেন জ্বলে উঠে জার্মানি। ৩৮ মিনিটে যশুয়া কিমিচের কর্নার থেকে দারুণ হেডে দলকে আবার এগিয়ে দেন নিকো শ্লটারবেক। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বক্সে নেমেচাকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় জার্মানি। স্পটকিক থেকে গোল করে বিরতির আগেই ব্যবধান ৩-১ করেন কাই হাভার্টজ।
দ্বিতীয়ার্ধে যেন আরও ভয়ংকর রূপ নেয় জার্মানি। ৪৭ মিনিটে কিমিচের পাস থেকে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিচু শটে চতুর্থ গোল করেন জামাল মুসিয়ালা। ৬৮তম মিনিটে ফ্লোরিয়ান ভির্টজের পাস ও বদলি খেলোয়াড় ডেনিজ উনদাভের বুদ্ধিদীপ্ত ফ্লিক থেকে গোল করেন নাথান ব্রাউন। ৭৮তম মিনিটে হাভার্টজের আক্রমণ থেকে তৈরি সুযোগে ছয় গজ বক্সের ভেতর থেকে সহজ ফিনিশে জার্মানির ষষ্ঠ গোল করেন ডেনিজ উনদাভ। ৮৮তম মিনিটে লিওন গোরেৎসকার বল দখলের পর উনদাভ নিখুঁত থ্রু পাস বাড়িয়ে দেন কাই হাভার্টজকে। ডিফেন্ডারের চাপ সামলে এগিয়ে গিয়ে ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষককে পরাস্ত করে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন হাভার্টজ। তাতেই স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৭-১।
পরিসংখ্যানেও ছিল জার্মানদের একচ্ছত্র আধিপত্য। ম্যাচে ৬৫ শতাংশ সময় বল দখলে রাখে তারা এবং ২৬টি শট নেয়, যার ১১টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে কুরাসাও ৬টি শট নিয়ে মাত্র দুটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলে ৭-১ ব্যবধানের বিশাল জয় নিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে জার্মানি। আর সেই সঙ্গে এক যুগ আগের ব্রাজিল-বিধ্বস্ত রাতের স্মৃতিও যেন নতুন করে ফিরিয়ে আনে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
সূত্র : কালবেলা












































