
ব্রাজিল সমর্থকদের আকাশজুড়ে যেন আজ বিষাদের মেঘ। বুকভরা হাহাকার আর এক সমুদ্র বেদনা নিয়ে ফিফা বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সেলেসাওরা। সে পরাজয়ের রাতই হয়ে রইল আরও বেশি বেদনাময়, কারণ আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ব্রাজিলের প্রাণভোমরা নেইমার জুনিয়র। বিদায়ের ক্ষণে মাঠে নেইমারের অশ্রুসিক্ত চোখ যেন কোটি কোটি সমর্থকের কান্নার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠল। বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ভক্তদের মতো বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনের অনেক তারকার মনেও নেমে এসেছে সেই বিষাদের ছায়া। প্রিয় দলের বিদায় আর প্রিয় তারকার অবসর তাদেরও করেছে আবেগাপ্লুত। ব্রাজিলের এ বিদায়ের পর তারকাদের অফিসিয়াল ফেসবুক হ্যান্ডেলগুলো ভরে উঠেছে আবেগঘন পোস্টে। প্রিয় দলের এমন হার এবং প্রিয় তারকার বিদায়ে নিজেদের কষ্ট ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন তারা, যা দেখে ব্যথিত সাধারণ ভক্তরাও। লিখেছেন রিয়েল তন্ময়
ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ব্যক্তিগতভাবে ব্রাজিলের সমর্থক। প্রিয় দলের এমন পরাজয়ে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া এবং নেইমারের অবসরের ঘোষণায় তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে নেইমারের একটি ছবি শেয়ার করেন। ক্যাপশনে এই অভিনেত্রী লিখেন, ‘একটি যুগের সমাপ্তি। ধন্যবাদ, নেইমার জুনিয়র, ব্রাজিলের জার্সিতে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেওয়ার জন্য।’
ম্যাচের আগে ব্রাজিলের জয় নিয়ে কোনো চিন্তাই ছিল না ছোট পর্দার আরেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী জান্নাতুল সুমাইয়া হিমির। ম্যাচ শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ ফুরফুরে মেজাজে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন তিনি। হিমি লিখেছিলেন, ‘ম্যাচের টেনশন? সেটা তো প্রতিপক্ষ করবে। আমি তো চিল করছি!’
তবে ট্র্যাজিক পরাজয়ের পর ব্রাজিলের এই ভক্তকে সামাজিক মাধ্যমে আর নতুন কোনো পোস্ট করতে দেখা যায়নি।
ব্রাজিলের খেলা চলাকালীন সময় অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘি তার পেজে লেখেন, ‘আজ মনে হয় আমার একটা হার্ট আট্যাক হয়ে যাবে।’ খেলা শেষে ব্রাজিলের পরাজয়ের পর দীঘিকে আর কোনো পোস্ট দিতে দেখা যায়নি। ব্যথিত এ নায়িকা নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন।
ব্রাজিলের এমন বিদায়ের পরও একদমই আশাহত নন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাফা কবির। ২০২৬-এর এই মিশন ব্যর্থ হলেও, পরের বারের জন্য এখনই আশায় বুক বেঁধে আছেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে সাফা লিখেছেন, ‘ইনশাআল্লাহ, নেক্সট টাইম!’
ব্রাজিলের আরেক কট্টর সমর্থক ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশ। প্রিয় দল বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়া এবং প্রিয় তারকা নেইমারের এমন বিদায়ের ধাক্কা যেন ছুঁয়ে গেছে তাকেও। পলাশ লিখেছেন, ‘একটা যুগের সমাপ্তি, কিন্তু কিংবদন্তির গল্প কখনোই শেষ হয় না। বিদায়, নেইমার জুনিয়র!’
জনপ্রিয় গায়িকা পড়শী বিশ্বমঞ্চে সুন্দর সব মুহূর্ত উপহার দেওয়ার জন্য ব্রাজিল দলকে ধন্যবাদ জানান। নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, ‘সবসময় ব্রাজিল। অসংখ্য আনন্দের মুহূর্ত উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ, ব্রাজিল।’
হলুদ জার্সি গায়ে দিলেই যে মানুষটার কথা সবার আগে মনে পড়ে, তিনি নেইমার—এমনই এক আবেগঘন কথা বলেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি। তিনি বিশ্বাস করেন, কিছু খেলোয়াড় ট্রফি দিয়ে নয়; বরং স্মৃতি দিয়েই ফুটবল ইতিহাসে নিজেদের নাম লিখে যান। আর নেইমার জুনিয়র তাদেরই একজন।
নেইমারের এ অশ্রুসিক্ত বিদায়ের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে মাহি বলেন, ‘তোমাকে নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে, অনেক আঘাত এসেছে, অনেক স্বপ্ন ভেঙেছে। তবুও যখনই ব্রাজিলের জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছ, প্রতিটা ম্যাচে হৃদয় উজাড় করে খেলেছ। হয়তো বিশ্বকাপ ট্রফিটা তোমার হাতে উঠল না, কিন্তু কোটি ভক্তের হৃদয়ে তুমি চিরকাল একজন কিংবদন্তি হয়েই থাকবে।’
ব্রাজিলকে চিরকাল নিজের হৃদয়ে বহন করার অঙ্গীকার করেছেন ছোট পর্দার পরিচিত মুখ তানজিম সাইয়ারা তটিনী। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে, চোখে ছলছল জল নিয়ে নিজের কান্না লুকিয়ে এই অভিনেত্রী লিখেন, ‘দলের প্রতিটি ভালো ও খারাপ সময়ে আমি পাশে আছি। ব্রাজিল এমন একটি দল, যা আমি চিরকাল আমার হৃদয়ে বহন করব। আজ, আগামীকাল এবং সর্বদা—আমি আমার দলের সঙ্গেই থাকব।’
ফুটবলের সৌন্দর্যই হয়তো এখানেই—জয় যেমন উচ্ছ্বাসের জন্ম দেয়, তেমনি পরাজয়ও রেখে যায় অসংখ্য অশ্রুসিক্ত স্মৃতি। ব্রাজিলের বিদায় আর নেইমার জুনিয়রের আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানো কেবল একটি ম্যাচের সমাপ্তি নয়, বরং কোটি কোটি সমর্থকের আবেগেরও এক অধ্যায়ের ইতি। সেই আবেগ থেকে দূরে থাকতে পারেননি বাংলাদেশের শোবিজ তারকারাও। কেউ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, কেউ স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরেছেন, কেউ আবার আগামী বিশ্বকাপের আশায় বুক বেঁধেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে থাকা তাদের এসব পোস্টই যেন বলে দেয়—ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি ভালোবাসা, স্মৃতি আর অনুভূতিরও আরেক নাম।













































