প্রচ্ছদ জাতীয় ডিলিট করা পোস্ট নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন শিবিরের সাবেক সভাপতি

ডিলিট করা পোস্ট নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন শিবিরের সাবেক সভাপতি

এনসিপিকে কেন্দ্র করে দেয়া পোস্ট ডিলিটের পর চলমান বিতর্কের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্টে তিনি ডিপ পাওয়ারের ভূমিকা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

‘ডিপ পাওয়ার ও আমার ভাবনা’ শিরোনামের ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, আগের পোস্টকে কেন্দ্র করে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী ফোন ও বার্তায় তাদের উদ্বেগ ও কষ্টের কথা জানিয়েছেন। কেউ পোস্টটি মুছে ফেলতে বলেছেন, আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, ‘কথাগুলো ঠিক, কিন্তু পোস্টটি আপনি না দিলেই ভালো হতো।’ এ কারণে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতেই নতুন করে বক্তব্য তুলে ধরেছেন বলে জানান তিনি।

পোস্টে জাহিদুল ইসলাম বলেন, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাকে তিনি ‘পরিকল্পিত’ বললেও কোথাও পরিকল্পনাকারী হিসেবে এনসিপি বা বিএনপির নাম উল্লেখ করেননি। তার ভাষ্য, তিনি ‘ডিপ পাওয়ার’-এর কথা বলেছেন, যা কোনো রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণে নয়; বরং বিভিন্ন দলকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে।

তিনি আরও দাবি করেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে এনসিপির ওপর বিভিন্ন হামলার ঘটনায় ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামী ধারাবাহিকভাবে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। গাজীপুর, গোপালগঞ্জ ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সংগঠনগুলো নৈতিক দায়িত্ব পালন করেছে।

নতুন পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘ডিপ স্টেটের’ কৌশলে এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের প্রতিযোগিতা সৃষ্টি এবং জামায়াতবিরোধী অবস্থানে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তার মতে, এতে এনসিপিকে দুর্বল করার পাশাপাশি ‘জুলাইয়ের শক্তিকেও’ দুর্বল করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এনসিপির নেতৃত্ব এ ধরনের ষড়যন্ত্র অনুধাবন করবে।

বিএনপিকে দুই ধারায় বিভক্ত করে দেখার কথাও উল্লেখ করেন জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, একটি ধারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শ ধারণ করে, যাদের তিনি সম্মান করেন। অন্যদিকে আরেকটি অংশ ‘ডিপ পাওয়ার’-এর প্রভাবে পরিচালিত বলে দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, ‘জুলাইকে মুছে ফেলার’ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলছে। তার মতে, জুলাইয়ের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ ও নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষাকে আড়াল করতে নানা বিচ্ছিন্ন ইস্যু সামনে আনা হচ্ছে এবং আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গও আলোচনার বাইরে চলে যাচ্ছে।

পোস্টের শেষাংশে জাহিদুল ইসলাম বলেন, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে জামায়াত, বিএনপির বাংলাদেশপন্থী অংশ, এনসিপিসহ গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে ঐক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দাবি করেন, এই ঐক্য বজায় থাকলে ‘জুলাইকে কেউ মুছে ফেলতে পারবে না’।

সবশেষে আগের পোস্টে কেউ ব্যক্তিগতভাবে কষ্ট পেয়ে থাকলে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে শব্দচয়নে আরও সতর্ক থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ‘ডিপ পাওয়ারের রাজনীতির’ বিরুদ্ধে আপসহীন থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।