প্রচ্ছদ জাতীয় পাটোয়ারীকে দিয়ে বিএনপিকে ঘায়েলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াত-এনসিপি: রাশেদ খান

পাটোয়ারীকে দিয়ে বিএনপিকে ঘায়েলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াত-এনসিপি: রাশেদ খান

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেছেন বিএনপি নেতা মো. রাশেদ খান। তিনি দাবি করেছেন, “জামায়াত ও এনসিপি জোটগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, পাটোয়ারীকে সামনে রেখে এখন বিএনপিকে ঘায়েল করতে হবে।” তাঁর মতে, শুরু থেকেই একটি সুপরিকল্পিত মিশন নিয়ে বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে টার্গেট করা হচ্ছে।

এসময় রাশেদ খান বলেন, কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অত্যন্ত জঘন্য ও কুরুচিপূর্ণ। গতকালের ডিম নিক্ষেপের ঘটনা কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

তিনি উল্লেখ করেন, পাটোয়ারীকে কোনোদিন রাজপথের আন্দোলনে গিয়ে জেল খাটতে হয়নি, তাঁর হাত-কোমর ভাঙেনি কিংবা মাথাও ফাটেনি। গতকালের ঘটনাতেও তিনি মারাত্মকভাবে আহত হননি। জুতা বা ডিম নিক্ষেপ মূলত একটি প্রতীকী রাজনৈতিক প্রতিবাদ, যা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেও প্রচলিত রয়েছে।

বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের ত্যাগের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাশেদ খান বলেন, “ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় নির্মম নির্যাতন করে তারেক রহমানের কোমর ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তিনি নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছেন। এমনকি নিজের আপন ভাই মারা যাওয়ার পরও জানাজায় অংশ নিতে দেশে ফিরতে পারেননি।”

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন একজন ত্যাগী নেতাকে যখন প্রকাশ্য মঞ্চে কটাক্ষ করা হয়, তখন সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। রাশেদ খানের দাবি, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে তারেক রহমান দেশে ফিরলে শেখ হাসিনা তাঁকে জীবিত রাখত না, হয়তো ফাঁসি দিত। পাটোয়ারীরা বোধহয় এটাই চেয়েছিলেন যে, তারেক রহমান দেশে ফিরে শেখ হাসিনার মিথ্যা ও প্রহসনের রায়ে নিজের জীবন দিক।

নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীর রাজনৈতিক অবস্থান ও গতিবিধির সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, শুরুতে পাটোয়ারী ব্যক্তিগতভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে জামায়াতের জোটে যাওয়ার পর জামায়াত ও এনসিপি জোটগতভাবে সিদ্ধান্ত নেয় তাকে দিয়ে বিএনপিকে ঘায়েল করার।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, শুরুতে পাটোয়ারী বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ ও মির্জা আব্বাসকে লক্ষ্য করে সমালোচনা করছিলেন। কিন্তু এখন এই দুজনকে বাদ দিয়ে তিনি সরাসরি বিএনপির চেয়ারম্যান, তাঁর সহধর্মীনি ও কন্যা জাইমা রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে টার্গেট করে কুরুচিপূর্ণ আক্রমণ চালাচ্ছেন। পাটোয়ারী মন্তব্য করেছিলেন—‘বউকে দিয়েছেন হাসপাতালে, মেয়েকে ফুটবল খেলায় আর নিজে বৃষ্টি বিলাস করছেন’।

রাশেদ খান প্রশ্ন তোলেন, এটি কোনো সুস্থ রাজনৈতিক সমালোচনার পর্যায়ে পড়ে কি না। একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যক্তির মুখ থেকে এমন গালিগালাজ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাশেদ খান প্রশ্ন রেখে বলেন, যারা বিএনপি এবং তারেক রহমানকে ভালোবাসেন, নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী যদি দেশের বিভিন্ন জেলা যেমন—ঝিনাইদহ কিংবা চট্টগ্রামে যান, তবে সেখানে দলের সংক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকরা কি প্রতিবাদ গড়ে তুলবে না?