
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আদালতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আসাদুজ্জামান খান কামাল শনিবার প্রকাশিত বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বললেন, ‘নেত্রী যেরকম ঘোষণা দিয়েছেন, সেভাবেই আমরাও দেশে ফিরে গিয়ে বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। আমরা প্রমাণ করতে চাই, আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো ভুয়া ছিল, আমাদের সঙ্গে ন্যায়বিচার করা হয়নি।’
তিনি জানান, দেশ ছাড়ার পর একবছর রীতিমতো ট্রমার মধ্য দিয়ে কাটিয়েছেন।
তিনি নিজের পলাতক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ সময় দেশে ফিরে ‘যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে প্রস্তুত’ বলে জানান তিনি।
কামাল বলেন, ‘ঘটনা পরম্পরা যেদিকে গিয়েছিল সেদিন (৫ আগস্ট ২০২৪), তার জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। হয়ত অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ছিল আমাদের, ভুল তথ্যও দেওয়া হয়েছিল।’
সরকার পতনের পর ৯ সেপ্টেম্বর ভারতে পৌঁছান বলেও জানান তিনি।
পলাতক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা সরে আসতে পারেনি, তারা বেশিরভাগই জেলে, নয়তো বাড়ি-ঘর ছাড়া। আমার ছেলে, সে কোনো রাজনীতি করে না, আমার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানগুলো দেখাশোনা করত, সে-ও আজ দু’বছর হলো জেলে। আমার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দিয়েছে। নিরাপত্তাকর্মীরা যতটুকু পারছেন, বাঁচিয়ে রেখেছেন আপাতত।’ভারতে গত দুই বছরে মূলত আত্মীয়-বন্ধুদের সহযোগিতায় তার সংসার চলছে বলে দাবি করেন তিনি।
আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে বিবিসি জানতে চায়, তার অধীনে যে পুলিশ বাহিনী ছিল, তাদের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোসহ বহু অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কী বলবেন?
তিনি জবাবে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা পুলিশ বা আনসার সদস্যরা ৫ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত সঠিকভাবেই তাদের দায়িত্ব পালন করেছে বলে আমি মনে করি।’
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে হত্যার দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেই ফাঁসির আদেশ হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের।











































