প্রচ্ছদ আন্তর্জাতিক পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের মন্তব্যের জবাবে যা বলল ভারত

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের মন্তব্যের জবাবে যা বলল ভারত

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিজয়ের কয়েকদিন পর অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের নির্বিঘ্ন প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে ঢাকার সহায়তা চেয়েছে ভারত। একই সঙ্গে ঝুলে থাকা নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন করতে ঢাকার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ওই আহ্বান জানিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারত থেকে অবৈধভাবে ‘পুশব্যাকের’ বিষয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন, তার প্রতিক্রিয়ায় রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ভারত এই ইস্যুতে বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে।

তিনি বলেন, ‌‌‘‘গত কয়েক দিন ধরে আমরা এই ধরনের মন্তব্য লক্ষ্য করছি। তবে এসব মন্তব্যকে ভারত থেকে অবৈধ বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসনের মূল ইস্যুর প্রেক্ষিতে দেখা উচিত। আর এই কাজের জন্য অবশ্যই বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন।’’

জয়সওয়াল বলেন, বর্তমানে ২ হাজার ৮৬০ টিরও বেশি নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আবেদন বাংলাদেশের কাছে ঝুলে আছে। এর মধ্যে অনেকগুলো পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ‘‘আমরা আশা করি বাংলাদেশ দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কাজ শেষ করবে; যাতে অবৈধ অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা যায়।’’

এর আগে, ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর বাংলাদেশে কাউকে ‘পুশ’ করা হবে না বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। বুধবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমি আশা করি এ ধরনের (পুশব্যাক) কোনও ঘটনা ঘটবে না। তবে সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) ‘সতর্ক থাকতে’ বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিশাল জয়ের কয়েক দিন পরই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই বক্তব্য এলো। নির্বাচনে বিজেপি অনুপ্রবেশের বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছিল এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশে মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিল। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।