প্রচ্ছদ আর্ন্তজাতিক ভারতে ফের বিক্ষোভের উত্তাপ, মোদির বাসভবন অভিমুখে মিছিলের ডাক

ভারতে ফের বিক্ষোভের উত্তাপ, মোদির বাসভবন অভিমুখে মিছিলের ডাক

সারাবিশ্ব
ভারতে ফের বিক্ষোভের উত্তাপ, মোদির বাসভবন অভিমুখে মিছিলের ডাক
নিউজ ডেস্ক
আগস্ট ০২, ২০২৬, ০৯:৪৭ সকাল

ফাইল ফটো

ই-২০ পেট্রোল চালুর বিরোধিতা ঘিরে ভারতে আবারও আন্দোলনের আবহ তৈরি হয়েছে। এ ইস্যুতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবন অভিমুখে মিছিলের ঘোষণা দিয়েছেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির (এএপি) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি জানিয়েছেন, দুই লাখের বেশি মানুষের স্বাক্ষরসংবলিত একটি আবেদনপত্র নিয়ে আগামী ৪ আগস্ট মিছিল নিয়ে মোদির বাসভবনে যাবেন তারা।

সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, শনিবার (১ আগস্ট) ‘ন্যাশনাল টাউনহল অ্যাগেইনস্ট ই-২০’ অনুষ্ঠানে অরবিন্দ কেজরিওয়াল এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ই-২০ পেট্রোল চালুর বিরোধিতা করে প্রধানমন্ত্রী মোদির উদ্দেশে করা ওই অনলাইন আবেদনপত্রে ইতোমধ্যে দুই লাখের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। তিনি নিজেই এর মুদ্রিত কপি মোদির কাছে পৌঁছে দেবেন।

তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমি দেশবাসীকে মোদির উদ্দেশে একটি আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করার আহ্বান জানিয়েছিলাম। এখন পর্যন্ত দুই লাখের বেশি মানুষ অনলাইনে এতে স্বাক্ষর করেছেন। ৪ আগস্ট দুপুর ১২টায় আমি নিজে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে আবেদনপত্রটি জমা দেব। আমার সঙ্গে মাত্র ১০০ জন থাকবেন, যারা পুলিশের লাঠিচার্জ বা কারাগারে যেতে ভয় পান না।’

কেজরিওয়াল আরও বলেন, ‘ই-২০ পেট্রোল যদি সত্যিই নিরাপদ হতো, তাহলে মোদি সরকার আলোচনায় বসত। আমরা আমাদের প্রমাণ তুলে ধরতাম, আর তারাও তাদের প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারত।’

তবে কেজরিওয়ালের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন দিল্লি বিজেপির সভাপতি হর্ষ মালহোত্রা। তিনি বলেন, ‘ই-২০ জ্বালানি ব্যবহারের কারণে গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা ইঞ্জিন বিকল হয়েছে— এমন অন্তত ১০০টি গাড়ির প্রমাণ তিনি দেখান।’

প্রসঙ্গত, পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোয় গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতির পাশাপাশি মাইলেজ কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু বিষয়টা আরও গভীর বলে দাবি বিরোধীদের। মূলত ইথানল ব্যবসায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করির দুই পুত্র থাকার কারণেই কেন্দ্রীয় সরকার এই নীতি নিয়ে আসতে চাইছে বলেও অভিযোগ তাদের।

কেজরিওয়ালের অভিযোগ, ভারত-আমেরিকার প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির জেরেই ভারতে জোর করে ই-২০ নীতি চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। যাতে আমেরিকাকে খুশি রাখা যায়।

এ দিন মূলত তিনটি দাবি জানিয়েছেন তিনি। প্রথমত, পেট্রোল পাম্পে গ্রাহকদের যেন সাধারণ পেট্রোল অথবা ই-২০ জ্বালানি— দুটির মধ্যে পছন্দ করার সুযোগ দেয়া হয়। দ্বিতীয়ত, পেট্রোলের দাম কমাতে হবে। তৃতীয়ত, কমাতে হবে ইথানলের মূল্যও।