প্রচ্ছদ জাতীয় মধ্যরাতে হঠাৎ চিৎকার শুরু করে বাচ্চাগুলো, ভোর হতে না হতেই না ফেরার...

মধ্যরাতে হঠাৎ চিৎকার শুরু করে বাচ্চাগুলো, ভোর হতে না হতেই না ফেরার দেশে সবাই!

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে একসঙ্গে অন্তত ছয় শিশুর মৃত্যুর হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এসির লিকেজ থেকে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে বলে স্বজনরা দাবি করেছেন। এ জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে দায়ী করছেন তারা। মৃত শিশুর সংখ্যা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

স্বজনরা বলছেন, মধ্যরাতে হঠাৎ করেই শিশুগুলো কান্না ও চিৎকার শুরু করে। এরপর অনেকের বমি হয়। ভেতরে এসি বন্ধ ছিল। গরমে সবাই আরও কষ্ট পাচ্ছিল। এসির গ্যাসে এক শিশুর স্বজনও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ভেতরে অনেক রোগী থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় এসি কম বলে তারা অভিযোগ করেন।

তাদের ভাষ্য, প্রায় সব শিশুর শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল। আগের রাতেও তাদের কোলে নিয়েছেন। মায়ের দুই পান করিয়েছেন। ভোর হওয়ার আগেই সবাই একে একে মারা যায়। তাদের দাবি, ভেতরে অন্তত ১৫ শিশু ছিল। এরমধ্যে কয়েকজনকে বাঁচানো গেছে।

যদিও পুলিশ বলছে, তারা প্রাথমিকভাবে ৬ শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এরপর বিস্তারিত বলা যাবে। ঘটনাস্থলে ক্রাইম সিন ইউনিটসহ গোয়েন্দারাও আছেন।

সরেজমিনে গিয়ে কয়েকজন স্বজনকে মৃত শিশু কোলে নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। কয়েকজন তাদের অসুস্থ বাচ্চাকে নিয়ে বাইরে বসে ছিলেন। ঘটনাস্থলে থানা পুলিশসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। বুধবার (২৭ মে) সকালে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মারা যাওয়া এক শিশুর চাচা বলেন, ‘রাতেও আমরা বাচ্চাটিকে কোলে নিয়েছি, মা দুধ পান করিয়েছে। রাত ১২টার দিকে চিল্লাচিল্লি শুরু হয়, নার্সরা দৌঁড়াদৌড়ি শুরু করে। কোন বাচ্চার স্বজন সারা রাত ঘুমাতে পারেনি। সকাল হতে হতে শিশুগুলো প্রাণ হারিয়েছে।

আরেক স্বজনের ভাষ্য, তাদের বাচ্চার ঈদের দিন সকালে রিলিজ হওয়ার কথা ছিল। সে জন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন তারা। এরইমধ্যে তার মৃত্যুর খবরে হাসপাতালে ছুঁটে আসেন। বাচ্চাটির জন্ম হয় চারদিন আগে বলে জানান তিনি। এক স্বজন দাবি করেন, তাদের ধারণা অন্তত ১১ থেকে ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশের ডিসি শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা খবর পেয়েছি, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে শিশুদের মৃত্যু আসলে কী কারণ, তা আমরা এখনো জানি না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ছয় শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে তারা নিশ্চিত হয়েছেন।