
সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট মাহবুব কামালের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে ওই চিঠিটির ছবিসহ ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন মাহবুব কামাল।
ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো :
‘এই চিঠিটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী লিখেছিলেন গত মাসের ৩০ তারিখে। আমি তখন টোকিওর পথে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আমাকে যখন ফোন করেছিলেন, আমি তখন টোকিওর নারিতা বিমানবন্দর পার হয়েছি মাত্র। যেহেতু আমি দেশে ছিলাম না, ফলে তিনি চিঠিটি তখন পাঠাননি। কয়েকদিন আগে দেশে ফিরে পেলাম এটি। প্রেস সচিবের সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল, তিনি চিঠিটি ফেসবুকে পোস্ট করার কথা বললেন এই যুক্তিতে যে, দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী সমালোচকদের কী চোখে দেখেন, সেটা জানানো দরকার।
দ্বিতীয়ত, সমস্যা সম্পর্কে সরকারের সঙ্গে সাংবাদিকদের কোথায় কোথায় মিল আর কোথায় অমিল, সেটাও পরস্পর বোঝা দরকার।
এরপর কালের কণ্ঠের মধ্যাহ্নভোজে মাসুদ কামাল ভাইয়ের দেখা পেলে তার সঙ্গেও চিঠিটি নিয়ে কথা বলি। তাকে আমার খুব সেন্সিবল লোক মনে হয়। তিনি বললেন, চিঠিটি ফেসবুকে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।
প্রথমত, আমরা যে সরকারের সমালোচনা করি, দেশের সর্বোচ্চ মহল সেগুলো সম্পর্কে ধারণা রাখেন কিনা, আমরা জানি না। বোঝা গেল, তারা, এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রী এসব নোটিশ করেন। দ্বিতীয়ত, মতের মিল হচ্ছে কি না, সেটাও একটা ব্যাপার। আমাদের কথা কতটা রাখা হবে, সেটা সরকারের উচ্চ মহলের ব্যাপার। তিনি অবশ্য চিঠিটি পোস্ট না করলেই ভালো হয় বলেছেন।
অবশেষে চিঠিটি পোস্ট করলাম। বলার অপেক্ষা রাখে না, আমার মতো একজন ক্ষুদ্র নাগরিক প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারায় আমি গর্ববোধ করেছি সত্য; কিন্তু অন্যায়ের প্রতিবাদ করার যে মনস্তত্ত্ব, এর কোনো পরিবর্তন হয়নি। এটা আমার রক্তের সঙ্গে মিশে আছে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিঠিটি হুবহু তুলে ধরা হলো :
‘প্রিয় মাহবুব কামাল ভাই,
আসসালামু আলাইকুম।
আশা করি ভালো আছেন। সাম্প্রতিক সময়ে আমাকে উদ্দেশ করে আপনার একটি ভিডিও বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আপনার কথাগুলো অর্থবহ এবং যৌক্তিক। অনেকগুলো পরামর্শের সঙ্গে আমি একমত হলেও কিছু বিষয়ে আমার ভিন্নমত রয়েছে।
এভাবে সুনির্দিষ্ট বিষয়ে যৌক্তিক পরামর্শ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগতভাবে আমার অবস্থান থেকে আমি এটুকু বলব যে, রাজনীতি করতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই অনেক কিছুর ভিড়ে বা বিভিন্ন কারণে কিছু বিষয় হয়ত যথাযথভাবে খেয়াল করা হয়ে ওঠে না। কিন্তু আপনি এবং আপনার মতো সচেতন ব্যক্তিরা যদি মুক্ত এবং স্বাধীনভাবে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো জনগণের সামনে উপস্থাপন করেন, তাহলে সেসব বিষয়ে আমার বা সংশ্লিষ্টদের জানতে বা বুঝতে সুবিধা হয়।
আমার অনুরোধ, আগামী দিনগুলোতেও আপনি আপনার পরামর্শ, মতামত বা বক্তব্য উপস্থাপন অব্যাহত রাখবেন। সব বিষয় সম্পর্কে আমরা একমত না হলেও আমার বর্তমান অবস্থান থেকে আপনার বা আপনাদের উপস্থাপিত বিষয়গুলো আমার জানা কিংবা বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এমনকি আপনার বা আপনাদের অনেক যুক্তি ও চিন্তা ব্যক্তিগতভাবে দেশ এবং জনগণ নিয়ে আমার পরিকল্পনাকে সমৃদ্ধ করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলেও আমি মনে করি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা একে অপরকে যেমন সহযোগিতা করব, ঠিক একইভাবে তা দেশ গঠনেও ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
পরিশেষে, আপনার এবং আপনার পরিবারের সুস্বাস্থ্য কামনা করি। আমার প্রতি আপনার এই ভিডিও বার্তার জন্য আপনাকে আবারও আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।’













































