প্রচ্ছদ জাতীয় মিরপুর চিড়িয়াখানার নাম বদলে ‘হোয়াইট হাউস’ রাখার দাবি

মিরপুর চিড়িয়াখানার নাম বদলে ‘হোয়াইট হাউস’ রাখার দাবি

মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় এখন প্রধান আকর্ষণ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’! তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন, বরং সাদা রঙের রাজকীয় এক মহিষ। আর এই ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ চিড়িয়াখানায় স্থান পাওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দর্শনার্থীদের মাঝে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। রসিকতা করে অনেক দর্শনার্থীসহ নেটিজেনরা এখন মিরপুর চিড়িয়াখানার নাম বদলে ‘হোয়াইট হাউস’ রাখার দাবি তুলছেন।

নেটিজেনরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বাসভবন ‘হোয়াইট হাউস’। আর মিরপুর চিড়িয়াখানায় এখন শোভা পাচ্ছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। এই দুইয়ের মিল টেনে নেটিজেন ও দর্শনার্থীরা, মিরপুর চিড়িয়াখানার নাম ‘হোয়াইট হাউস’ করার দাবি তুলেছেন। ব্যাপারটা অবশ্যই রসিকতার ছলে। এমন দাবি সংবলিত পোস্টগুলো এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে।

সাদা রঙের বিরল অ্যালবিনো জাতের এই মহিষটি ঈদুল আজহার কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য আনা হয়েছিল। প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই বিরল মহিষটির মাথায় সোনালি রঙের চুল এবং চোখের ভিন্নধর্মী বৈশিষ্ট্যের কারণে খামারিরা শখ করে এর নাম রেখেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামানুসারে। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহিষটির ছবি ও ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়। এবারের ঈদে আর সব পশুকে ছাপিয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে গেছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। বিবিসি, সিএনএন, নিউইয়র্ক পোস্ট, রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক বহু গণমাধ্যমে খবরের শিরোনামে এসেছে নারায়ণগঞ্জের রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মের এই মহিষটি।

মিরপুর চিড়িয়াখানার নাম বদলে ‘হোয়াইট হাউস’ রাখার দাবি
মিরপুর চিড়িয়াখানায় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’
মহিষটি কোরবানির উদ্দেশ্যে বিক্রি হলেও সেটিকে একনজর দেখতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় এবং বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়।

মহিষটির ক্রেতাকে তার প্রাপ্য টাকা বুঝিয়ে দিয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের মাধ্যমে বুধবার (২৭ মে) রাতে এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

চিড়িয়াখানার ৭ নম্বর শেডে ঠাঁই হয়েছে এই বিশেষ অতিথির। ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে একনজর দেখতে সকাল থেকেই ওই শেডের সামনে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের মাঝে ট্রাম্পকে নিয়ে তুমুল উদ্দীপনা দেখা গেছে। একে দেখতে চট্টগ্রাম থেকে এসেছেন এক মার্কিন তরুণী।

কালবেলাকে তিনি বলেন, টিভিতে, অনলাইনে পশুটিকে দেখেছি। তাই বাস্তবে দেখতে এলাম। আমি মার্কিন নাগরিক। আপাতত চট্টগ্রামে থাকছি। পশুটিকে সরাসরি দেখে আমি বিস্মিত। আমাদের প্রেসিডেন্টের মতোই ওর সোনালি চুল আছে, মুখটাই মিলেছে। তাছাড়া মহিষটি দেখতে অনেক কিউট। সত্যি এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতো দেখতে, আমি অভিভূত।

‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের মহিষটিকে দেখতে ঈদের দ্বিতীয় দিনেও চিড়িয়াখানা ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, যারা চিড়িয়াখানায় এসেছেন, একবারের জন্য হলেও ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে দেখতে ‘এল-০৭’ খাঁচার সামনে আসছেন। অন্যান্য খাঁচার সামনে দর্শনার্থী কম থাকলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে ভিড় লেগেই থাকছে। কেউ কেউ দূরবীন নিয়ে এসেছেন পশুটিকে ভালোভাবে দেখতে।

খাঁচার সামনে এই মহিষের একটি পরিচয়ও ঝুলিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। তাতে লেখা, ‘সাদা মহিষ (ডোনাল্ড ট্রাম্প)’। সেখানে ইংরেজিতে ‘অ্যালবিনো বাফেলো’ও লেখা আছে।

বেশিরভাগ দর্শনার্থীর মুখে একই কথা, ‘মোবাইলে যেমন দেখেছি, বাস্তবেও মহিষটি তেমন। ট্রাম্পের মতো লাগে তো।’

জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর মো. আতিকুর রহমান বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গতকাল রাত ১১টার সময় আনা হয়েছে। আজ সকাল থেকে মহিষটির খাঁচার সামনে দর্শনার্থীদের ভিড়। এটা একটা নতুন প্রাণী, ভাইরাল অনেক, এ কারণে ভিড়।