প্রচ্ছদ জাতীয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ফরিদপুর

রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ফরিদপুর

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফ (ভিলেজ গ্রুপিং ফর ফিডিং) কার্ডের চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৬০ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (৩০ মে) সকাল থেকে উপজেলার বাবলাতলা এলাকায় দুই দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ভাঙ্গা থানা পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহার দুদিন আগে উপজেলার ৮ নম্বর চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন অসহায় জনগোষ্ঠীর মাঝে খাদ্য সহায়তা (ভিজিএফের চাল) বিতরণ করা হচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় আকরাম খান নামের এক ব্যক্তি ফেসবুক লাইভে এসে গরিবদের চাল কম দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। লাইভে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এই ঘটনার জেরে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় চুমুরদী ইউপি চেয়ারম্যান সোহাগ মিয়ার ছোট ভাই চন্দনের সঙ্গে আকরাম খানের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ঢাল, শড়কি, টেঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আকরাম খানের পক্ষে স্থানীয় শাহাবুদ্দিন মোল্লা এবং চন্দনের পক্ষে ইউপি চেয়ারম্যান সোহাগ মিয়া ও ইসরাফিলসহ তাদের সমর্থকরা অবস্থান নেন। শুক্রবারের প্রথম দফার দুই ঘণ্টার সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন। এরপর শনিবার সকালে দ্বিতীয় দফায় আবারও উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হলে আরও ৩০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহাগ মিয়া বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণ করেছেন মেম্বাররা। আমি অসুস্থ থাকায় সেখানে ছিলাম না। আকরাম নামের ওই ব্যক্তি আমাদের স্থানীয় এমপির ছোট ভাইয়ের ভুয়া পরিচয় দিয়ে কার্ড ছাড়াই চাল নিতে গিয়েছিলেন। চাল না পেয়ে তিনি ফেসবুকে লাইভে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর দুদিন পর আমার ছোট ভাই বাড়ি ফেরার পথে আকরামের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে আকরাম খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভিজিএফ কার্ডের ১০ কেজি চালের জায়গায় গরিব মানুষকে ৭ থেকে ৮ কেজি দেওয়া হচ্ছিল। এই খবর পেয়ে আমি ফেসবুক লাইভ করি। আমার লাইভ দেখে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড স্যার এসে বিষয়টি তদারকিও করে যান। কিন্তু চেয়ারম্যানের ভাই চন্দন আমাকে অহেতুক মারধর করায় দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে এই সংঘর্ষ বাধে।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, মূলত স্থানীয় বিএনপির কমিটি গঠন এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই দুই পক্ষের মধ্যে দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।