প্রচ্ছদ জাতীয় এনসিপির মামলায় ছাত্রদল সভাপতিসহ আসামি হলেন যারা

এনসিপির মামলায় ছাত্রদল সভাপতিসহ আসামি হলেন যারা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। একই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সেইসঙ্গে এনসিপি ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জারি করা ১৪৪ ধারা বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে প্রত্যাহার করেছে জেলা প্রশাসন।

সকালে এনসিপির পক্ষ থেকে দেওয়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে হবিগঞ্জ সদর থানায় মামলাটি রুজু করে পুলিশ। মামলার বাদী হয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের জুয়েল।

মামলায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন ছাড়াও ছাত্রদল নেতা আশরাফুজ্জামান রিয়াদ, আসিফুল ইসলাম ইমন, মোজাক্কির হোসেন ইমন, এম এইচ শিমুল, আল সাইমন, মাহফুজ চৌধুরী, ইসতিয়াক রহমান ইসতি, শেখ সাব্বির, নাজমুল হোসেন অভি ও রক্সি ইসলামকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জ টাউন হলের সামনে থেকে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে এনসিপির গাড়িবহরে আসামিদের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি এবং পাঁচ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। হামলায় এনসিপির নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী আহত হন।

ঘটনার প্রতিবাদে এনসিপি বুধবার হবিগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে। একই সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে এনসিপির পক্ষ থেকে কটূক্তিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলও পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে।
পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সম্ভাব্য সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে।

১৪৪ ধারা চলাকালে বুধবার বিকালে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে আসার পথে বাহুবল উপজেলার মুছাই বাজার এলাকায় এবং পরে কামাইছড়া এলাকায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিরাপত্তাজনিত কারণে এনসিপির নেতৃবৃন্দকে হবিগঞ্জে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদের সঙ্গে এনসিপির নেতৃবৃন্দের আলোচনা হয়। এরপর মঙ্গলবারের হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিতে বুধবার রাত ৮টার দিকে কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পে যান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। সেখানে দেওয়া লিখিত অভিযোগে হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের জুয়েল ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন।

প্রতিনিধি দলে নাহিদ ইসলাম ছাড়াও ছিলেন এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এমপি মাহমুদা মিতু ও সারোয়ার তুষার। পরে অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাই শেষে বৃহস্পতিবার সকালে হবিগঞ্জ সদর থানায় মামলা হিসেবে রুজু করে পুলিশ।

এদিকে, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জারি করা ১৪৪ ধারা বৃহস্পতিবার সকালে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি এম সরফরাজ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ফলে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ও চলাচলে আর ১৪৪ ধারার বিধিনিষেধ থাকছে না।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন মামলা রুজুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এনসিপির পক্ষ থেকে দেওয়া লিখিত অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাই শেষে মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।’

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকায় পৌর এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল ও জনসমাগম নিষিদ্ধ রয়েছে। সম্ভাব্য সংঘর্ষ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় এনসিপির নেতাকর্মীদের জেলা শহরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

এর আগে মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগের প্রতিবাদে দলটি সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর অংশ হিসেবে বুধবার হবিগঞ্জে সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সময়ে ছাত্রদল ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পৃথক কর্মসূচি থাকায় সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন।