প্রচ্ছদ জাতীয় বিয়ের দাবিতে পরকীয়া প্রেমিকের দুয়ারে মা, বাড়িতে কাঁদছে ছোট তিন সন্তান

বিয়ের দাবিতে পরকীয়া প্রেমিকের দুয়ারে মা, বাড়িতে কাঁদছে ছোট তিন সন্তান

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বিয়ের দাবিতে এক সিঙ্গাপুর প্রবাসীর বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী । বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত থেকে উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের চর নান্দিনা গ্রামে এই ঘটনা শুরু হয়। অনশনকারী ওই নারী ভাটারা ইউনিয়নের আজিজুল হকের মেয়ে ও চর নান্দিনা এলাকার জামাল মন্ডলের ছেলে মমিন মিয়ার স্ত্রী নাদিয়া আক্তার তিশা। ৩০ বছর বয়সী এ নারী এবং তার স্বামী মমিন মিয়ার ঘরে দুটি মেয়ে ও একটি ছেলে সন্তান আছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো: চান মিয়া। পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে মা চলে যাওয়ার পর মানবেতর জীবন-যাপন করছে তার সন্তানরা; সঙ্গে কাঁদছে তারা।

​স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে মমিন মিয়ার সাথে তিশার পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। পরে মমিন কাজের জন্য তিশাকে বাড়িতে রেখে সৌদি আরবে চলে যান। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবে প্রবাসে রয়েছেন। স্বামী প্রবাসে থাকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একই এলাকার সাকিন মিয়ার ছেলে সিঙ্গাপুর প্রবাসী সিয়াম মিয়ার সাথে তিশা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।

দীর্ঘদিনের এই ভার্চুয়াল সম্পর্ক একসময় গভীর প্রেমে রূপ নেয়। কিছুদিন আগে সিয়াম সিঙ্গাপুর থেকে ছুটিতে দেশে আসেন। তারপর সিয়ামের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিশা তার সংসার ফেলে বুধবার রাতে সিয়ামের বাড়িতে চলে যান। পরে সিয়াম তিশাকে রেখে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। তারপর থেকেই বিয়ের দাবিতে তিশা সিয়ামের বাড়িতে অনশন শুরু করেন। বিষয়টি প্রথমে তাদের পরিবারের মধ্যে থাকলেও বৃহস্পতিবার রাতে পুরো এলাকায় চঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

এ বিষয়ে মমিন মিয়ার মা বলেন, “যে মেয়ে বাচ্চা সংসার ফেলে প্রেমিকের কাছে চলে গেছে তার প্রতি আমাদের কোন মায়া, ভালোবাসা, অধিকার নেই। এই মেয়েকে আমরা আর ঘরে তুলব না।”

তবে সিয়াম ও তার বাবা সাকিন মিয়া বাসা থেকে পলাতক থাকাই তাদের সাথে যোগাযোগ করা যায়নি এবং সিয়ামের মা কোন কথা বলতে রাজি হয়নি।

ওই ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো: চান মিয়া বলেন, এটা আমাদের এলাকার সম্মান নষ্ট করছে। মেয়েটি দুইদিন ধরে অনশনে আছে। আমরা চাচ্ছি সিয়ামের সাথে তিশার বিয়ে দিয়ে ঘটনাটি শেষ করতে। কিন্তু সিয়াম তো পালিয়ে আছে। সিয়ামকে ছাড়া বিয়ে দিব কেমনে।”

এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”