
পূর্ব-মধ্য ইউরোপের দেশ হাঙ্গেরির সাম্প্রতিক নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর প্রেসিডেন্ট তামাস সুলিয়কের পদত্যাগ দাবি করেছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী পিটার মাগয়ার। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বড় ধরনের সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) তথ্যটি জানানো হয়।
গেল রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পিটার মাগয়ারের দল তিসা পার্টি বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। এর মধ্য দিয়ে টানা ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের শাসনের অবসান ঘটে।
বুধবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাগয়ার জানান, ক্ষমতায় বসার পরপরই তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সংবাদ সম্প্রচার সাময়িকভাবে স্থগিত করবেন। দীর্ঘ দেড় বছর পর রাষ্ট্রীয় টিভিতে উপস্থিত হয়ে তিনি উপস্থাপকদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদনের অভিযোগ তোলেন। পরে সামাজিক মাধ্যমে এই অভিজ্ঞতাকে ‘প্রচারযন্ত্রের শেষ দিন’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মাগয়ার বলেন, প্রতিটি হাঙ্গেরিয়ান নাগরিকের অধিকার রয়েছে এমন একটি গণমাধ্যম পাওয়ার, যা সত্য প্রচার করবে। তিনি আরও জানান, নতুন মিডিয়া আইন, নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং পেশাদার কাঠামো গড়ে তুলতে কিছুটা সময় লাগবে।
এ দিকে প্রেসিডেন্ট তামাস সুলিয়কের পদত্যাগও দাবি করেন তিনি। বুদাপেস্টে প্রেসিডেন্ট ভবনে সাক্ষাতের পর সামাজিক মাধ্যমে মাগয়ার লেখেন, সুলিয়ক জাতির ঐক্যের প্রতীক হওয়ার যোগ্য নন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি নতুন সরকারের সামনে বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। আইনের শাসনসংক্রান্ত শর্ত পূরণ না হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় ১৬ বিলিয়ন ইউরো কোভিড পুনরুদ্ধার তহবিল এখনো আটকে আছে।
এ বিষয়ে মাগয়ার ইতোমধ্যে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইয়েনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন।
এছাড়া দুর্নীতি দমন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গণমাধ্যম ও একাডেমিক স্বাধীনতা পুনর্গঠনকে অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন নবনির্বাচিত এই প্রধানমন্ত্রী।
সূত্র: আল-জাজিরা












































