
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার দায়ে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
আজ শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তার বরখাস্তের আদেশ ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিতিকে সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী ‘কর্মস্থল ত্যাগ’ হিসেবে গণ্য করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ ডিএমপিতে অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) হিসেবে কর্মরত থাকাকালে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।
তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানায় এবং ইমেইলের মাধ্যমে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা সত্ত্বেও তিনি কর্মস্থলে ফিরে আসেননি।
পরে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এ বছরের ১৫ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি কিংবা জবাব দেওয়ার জন্য সময়ের আবেদনও করেননি।
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় ২২ জুন একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। ৬ আগস্ট জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’-এর ৩(গ) বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ‘কর্মস্থল ত্যাগের’ অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
২০ আগস্ট হারুনকে দ্বিতীয়বারের মতো কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়, কিন্তু তিনি সেটিরও কোনো জবাব দেননি।
এর ধারাবাহিকতায়, তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের মতো গুরুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে সরকার বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামত চেয়েছিল। কমিশন ১ অক্টোবর তাদের মতামতে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সুপারিশ করে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিভাগীয় মামলার নথিপত্র, তদন্ত প্রতিবেদন এবং পিএসসির মতামত পর্যালোচনা করার পর কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে বলে গণ্য করে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
রাষ্ট্রপতি ২৫ অক্টোবর এই সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোরশেদ চৌধুরী রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই প্রজ্ঞাপন জারি করেন।










































