প্রচ্ছদ জাতীয় এমপি আজিজের দলীয় পদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে হাইকমান্ড

এমপি আজিজের দলীয় পদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে হাইকমান্ড

নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের দলীয় পদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার দলের হাইকমান্ডের ওপর ছেড়ে দিয়েছে নাটোর জেলা বিএনপি। আব্দুল আজিজ নাটোর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, একজন যুগ্ম আহ্বায়কের বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের এখতিয়ার জেলা আহ্বায়ক কমিটির নেই বলে জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ।

জানা যায়, সম্প্রতি গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল হোসেন হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয় ডিবি পুলিশ। এ ঘটনার পরদিন ২৮ অক্টোবর, এমপি আজিজের একটি আপত্তিকর ভিডিও বিভিন্ন আইডি থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এ ঘটনায় পুরো নাটোরজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। নৈতিক স্খলনের অভিযোগ তুলে সংসদ সদস্য পদ ও দলীয় পদ থেকে আব্দুল আজিজের পদত্যাগের দাবি ওঠে।

এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণ করতে শুক্রবার জরুরি বিশেষ সভা আহ্বান করে নাটোর জেলা বিএনপি। সকাল ১০টায় জেলা পরিষদ হলরুমে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অধিকাংশ সদস্যের উপস্থিতিতে সভাটি শুরু হয়। দীর্ঘ আট ঘণ্টা ধরে চলার পর সভার সমাপ্তি ঘটে।

সভা শেষে জেলা বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জানান, গত কয়েক দিনের ঘটনাবলি সম্পর্কে তারা অবগত থাকলেও সভায় সব বিষয় আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা মামলায় রিমান্ডে থাকা এমপিপুত্র মিন্টুর সংশ্লিষ্টতা এবং আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে সভায় আলোচনা ও মতামত দেন বিএনপির সদস্যরা।

এ সময় দলের গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা করে জানানো হয়, জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ার জেলা কমিটির নেই। তাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব দলীয় হাইকমান্ডের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, আমরা সবগুলো ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেছি, যেগুলো সম্পর্কে আপনারা সবাই জানেন। আমাদের কাছে আব্দুল আজিজের পরিচয় তিনি জেলার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। এ ছাড়া তিনি একজন জাতীয় সংসদ সদস্যও। তাই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, জেলা কমিটির কোনো আহ্বায়কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা নেই। সর্বসম্মতিক্রমে এ বিষয়ে যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত দলীয় হাইকমান্ডের ওপর ন্যস্ত করেছে কমিটি।

এদিকে, শাকিল হত্যা মামলায় অভিযুক্ত এমপি আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর তিন দিনের রিমান্ডের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ায় শুক্রবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তার আরও সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছেন। এদিন গুরুদাসপুর আমলি আদালতের বিচারক মেহেদী হাসানের কাছে এ আবেদন জানানো হয়। শুনানি শেষে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

তবে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতাকর্মী বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আব্দুল আজিজ এমপির পক্ষে নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে তারা অপপ্রচারকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, তদন্তে আরও অগ্রগতির জন্য গ্রেপ্তার নুরুজ্জামান মিন্টুকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ কারণে বিধি অনুযায়ী, বিজ্ঞ আদালতের কাছে তার আরও সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আদালতের শুনানি শেষে রিমান্ড মঞ্জুর বা নামঞ্জুরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।