
ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার সময় নীল টি-শার্ট ও সাদা পাঞ্জাবি পরা দুই জন কোমর থেকে কি বের করছিলেন? এই দুই জনের পরিচয় কী? এমন প্রশ্ন এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে সামাজিক মাধ্যমের পাতায় পাতায়। কেউ বলছেন পিস্তল, কেউ বলছেন স্ট্রিজ (ভাজ করা এক ধরনের লাঠি)।
প্রথমত এই দুই জন হলেন- ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাষ্টসাগরা গ্রামের মৃত বাদশার ছেলে আশিক ও মাস্টারপাড়ার সিয়াম।
এনসিপি কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা বলেন, আশিক ও সিয়াম স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তারা এনসিপি করে না। কিন্তু নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীকে তারা ভালোবাসেন। তারা ঝিনাইদহ সফরের খবর পেয়ে স্বেচ্ছাসেবক হতে আগ্রহী হন। আশিক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। আর সিয়াম একজন জুলাইযোদ্ধা। তাদের কাছে কোনও অস্ত্র ছিল না। এটি একটি স্ট্রিজ। যা এক ধরনের লাঠি। হামলাকারীরাই মূলত এটা এনেছিল। হামলার এক পর্যায়ে আশিকের চোখে পড়লে এটা তিনি কেড়ে নিয়ে নিজ কোমরে রাখেন। পরে হামলা বেড়ে গেলে সিয়ামও আশিকের কাছ থেকে ওটা নিতে চান। তখন ওটা আশিক দেননি। এই ছবিই ভাইরাল হচ্ছে পিস্তল হিসেবে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে বিতর্কিত, সমালোচিত, মব ও সংঘাত উসকে দেওয়া ব্যক্তি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। শুক্রবার বিকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
স্ট্যাটাসের সঙ্গে তিনি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গী দাবি করে দুই অস্ত্রধারীর কয়েকটি ছবি ও তাদের পরিচয় পোস্ট করেন। তিনি আরও লেখেন, শুক্রবার ঝিনাইদহে গিয়েছিলেন মব করার জন্য, কিন্তু সেখানে সাধারণ জনতা পাটওয়ারীকে ডিম নিক্ষেপ করেছে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সন্ত্রাসীরা সাধারণ জনতার উদ্দেশে গুলি করার চেষ্টা করে।
অস্ত্রধারী দুজনের পরিচয় প্রকাশ করে তিনি লেখেন, অস্ত্রধারী দুজন শিবিরের সন্ত্রাসী। তাদের একজন সিয়াম উদ্দিন তুর্য (পাঞ্জাবি পরা)। তার বাবা জামায়াতের নেতা সল্টু মাস্টার (শিক্ষক, বদরগঞ্জ মাদ্রাসা)। আরেকজন আশিক (টি-শার্ট পরা)। তার বাবা বাদশা (মৃত)। তিনি শিবিরের নেতা।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরও লিখেন, অনতিবিলম্বে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে অস্ত্রধারী এই দুজন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারের জোর অনুরোধ রইলো।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আমি প্রত্যেকটা জুমা একেক মসজিদে পড়ি। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ২২ মে আমি ঝিনাইদহ ডিস্ট্রিক্ট কালেটরেটের বাসভবনের বিপরীতে কোর্ট মসজিদে জুমার নামাজ পড়ি। নামাজ শেষে বের হওয়ার পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আমাদের প্রথমে বাধা দেন এবং আতঙ্কগ্রস্ত করেন। আমরা তখনও তাদের আইডেন্টিফাই করতে পারিনি। এরপর তারা সরাসরি এসে পরিচয় দেন তারা ছাত্রদলের লোক। একটু পর আমার ওপর ডিম ছুড়ে মারা হয় এবং আমাকে ঘুসি দেওয়া হয়। এরপরই তারা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে আমাদের ওপর। এরপর তারা হকিস্টিক দিয়ে আমাদের সবাইকে বেদম পিটুনি শুরু করে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ওপর হামলার সময় ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপি, পুলিশ একসঙ্গে ছিল।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, আমাদের এখানে অনেকে বলছেন যে, এটার বিষয়ে ওপরের মহল থেকে ইন্ধন রয়েছে। যিনি আইনমন্ত্রী, আসাদুজ্জামান, তার। এখানে যিনি বিএনপির জেলা সভাপতি, মজিদ নামে একজন আছেন, যিনি এখানে একজন চাঁদাবাজ এবং চাঁদাবাজদের গডফাদার, তিনি এখানে রয়েছেন এবং এই পৌর যে ছাত্রদল আছে, তারপর এখানে ছাত্রদলের যারা সভাপতি, সেক্রেটারি মোটামুটি সবাই এখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তারা আমাদের ওপরে ডিরেক্টলি হামলা করেছেন। আমাদের কয়েকজন হসপিটালে চিকিৎসা নিয়েছে, কারও দুটা সেলাই, তিনটা সেলাই লেগেছে। আমরা সেগুলো সোশ্যাল মিডিয়াতে পাবলিশ করছি প্রমাণস্বরূপ। ইনশাআল্লাহ আমরা আশা করি বাংলাদেশে আমরা তাদের বিচার করতে সক্ষম হবো।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
উল্লেখ, শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ শেষে জেলা শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদ চত্বরে নাসীরুউদ্দীন পাটোয়ারীর ওপর ডিম ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন কমপক্ষে পাঁচ জন। এই হামলার জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপিকে দায়ী করেছেন। অন্যদিকে ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সর্বশেষ খবরে জানা যায়, ঘটনার পরপরই এনসিপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পাটওয়ারী ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করতে যান। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর রাত সোয়া ৯টার দিকে তার মামলা রেকর্ড করা হয়। এ সময় থানার বাইরে বিক্ষোভ করছিলেন ছাত্রদল-যুবদলের নেতাকর্মীরা। এদিকে দুপুরে সংঘর্ষ চলার এক পর্যায়ে এনসিপির দুই কর্মীকে কিছু একটা উঁচিয়ে এগিয়ে যেতে দেখা যায়।













































