
দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং রোগীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘সেন্ট্রাল ইমারজেন্সি অ্যালার্ম সিস্টেম’ বা বিশেষ ‘পাগলা ঘণ্টা’ চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই সিস্টেম চালু করা হবে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সিএমএসডি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও হাসপাতাল প্রশাসনের ওপর বেশ কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এই কড়া সুরক্ষামূলক উদ্যোগ হাতে নিয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, ঢাকার মহাখালী এলাকায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সংস্থা ও সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। এই জোনের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মহাখালী এলাকায় একটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের পরিকল্পনাও করছে সরকার।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি দেশের চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতেও আজ বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে দেশের ১০টি হাসপাতালের আইসিইউ সেবা আরও শক্তিশালী করতে চিকিৎসা সরঞ্জাম হস্তান্তর করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এর অধীনে প্রতিটি হাসপাতালে একটি করে ভেন্টিলেটর বা লাইফ-সাপোর্ট মেশিন এবং পাঁচটি করে অক্সিজেন কনসেনট্রেটর দেওয়া হয়েছে।
১০ বেডের আইসিইউ সুবিধা থাকা যে সব হাসপাতালে এই আধুনিক সরঞ্জামগুলো পাঠানো হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে টাঙ্গাইল, সুনামগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও যশোরের আড়াইশ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল। এছাড়া মাদারীপুর, বাগেরহাট ও চুয়াডাঙ্গার সদর হাসপাতালসহ মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের জেনারেল হাসপাতাল এবং শেরপুর জেলা হাসপাতালেও এই জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। সরকারের এই নতুন উদ্যোগগুলোর ফলে একদিকে যেমন চিকিৎসকদের কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে ঢাকার বাইরের জেলা হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।













































