প্রচ্ছদ সারাদেশ রাজনীতি নিষিদ্ধ ড্যাফোডিলে ৮০ জনের কমিটি দিল ছাত্রদল, নেতৃত্বে চমক

রাজনীতি নিষিদ্ধ ড্যাফোডিলে ৮০ জনের কমিটি দিল ছাত্রদল, নেতৃত্বে চমক

দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. আবু হোরায়রা ও সাধারণ সম্পাদক এম. রাজিবুল ইসলাম তালুকদার (বিন্দু) স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি প্রকাশ করা হয়।

নবগঠিত এ কমিটিতে শীর্ষ নেতৃত্বে রয়েছেন আহ্বায়ক এহসানুল হক ফেরদৌস, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তোফায়েল হোসেন ও সদস্য সচিব নাঈম আহমেদ নয়ন। নতুন এ কমিটিতে ৪৮ জন যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ২৯ জন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

যুগ্ম আহ্বায়করা হলেন- ফারদিন আহমেদ নাফিম, মো. হাসনাত, এস এম ইকরামুল ইসলাম, মাশরাফি ইসলাম কৌশিক, মাহমুদুল হাসান ইমন, সাহেদ হোসেন, নাঈম আহমেদ চৌধুরী, মো. মারুফ হোসেন, সাজ্জাদুল ইসলাম পাঠান, সজিব মন্ডল সরণ, নাফিসা তালুকদার, খালেদ রহমান ফাহিম, হুজাইফা আল লিয়ন, সাজ্জাদ হোসেন শুভ, তানভীর সিফাত, ছাকিবুল ইসলাম রক্তিম, ইশতিয়াক খান দিপ্ত, হানিফ আহমেদ, ইশতিয়াক আহমেদ খান জিদান, আহনাফ সাদ, রিফাত মোহাইমিন, ফাহিমুর রহমান, রাসেল আহমেদ, মো. আবু হুরায়রা, ছাদেকুর ইসলাম তুষার, প্রকাশ বাড়ৈ, সাকিব হোসেন, মো. বাঁধন হোসেন, রেজওয়ানুল হক রিফাত, আশরাফুল ইসলাম রাসেল, বাছিদ আহমেদ, নিয়াজ মাখদুম, মো. আলফাজ হোসেন, মাহফুজুর রহমান, শাহরিয়ার হোসেন নাহিদ, সাইফুর রহমান সুজন, ইজাজ আহমেদ হামিদ, মাসুদ হোসেন, আরাফাত ভূঁইয়া, আকাশ ইসলাম, সাখাওয়াত হোসেন ফাহিম, রাসেল আহমেদ, মো. রাকিবুল হাসান রবিন, আশিক হায়দার লিমন, নওরিন সুলতানা, জাইন জাইমা রাইয়ান, ফাইজা আফরোজ নীহার এবং মো. মশিউর রহমান রাফি।

সদস্যরা হলেন- হান্দাম হোসেন, স্বদ মোহাম্মদ নাকীব, মো. ইমরান হোসেন, ফাহিম আমিজ জীম, মোহাম্মদ জাহিদ হাসান, মোহাম্মদ রায়হান হোসেন আদিব, ইবনুল আরাবী ওলী, মো. ইয়া ওমর ফারুক, সৌমিক ফরহাদ, সনেট বৈদ্য, আক্তারুজ্জামান আশিক, সাব্বির রহমান রনি, মোজাম্মেল হোসেন মজুমদার (রাতূল), মো: সাব্বিউর রহমান, নাবিল আহমেদ, মিশকাত নূর, সুলতান মাহমুদ সাকিব, মো. রনি রাজা, আবু বক্কার ফয়সাল, মুন জামান, ইমতিয়াজ আহমেদ, মো: মাসুদুর রহমান, ইফতেখার দিনার রাতুল, তৌহিদুল ইসলাম অপু, রোহান হোসেন রাব্বি, সামিউল খান রাব্বি, মাহমুদুল হাসান ফাহিম, রায়হান সিদ্দিকী এবং তানজীল আহমেদ।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ছাত্রদলের আহ্বায়ক এহসানুল হক ফেরদৌস বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় ছাত্রসংগঠনগুলোর অন্যতম শাখা ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কমিটি হয়েছে। অনেকের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি রয়েছে, সবাইকে একসাথে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়। শহীদ জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করে সকলকে সঙ্গে নিয়ে দায়িত্বকে আমানত হিসেবে পালন করব এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে যাব। সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ার পরও কমিটি দেওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে আহ্বায়ক এহসানুল হক ফেরদৌস জানান, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ অবকাঠামোগতভাবে অনেকটা ছোট, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার মান উন্নয়নের স্বার্থে এবং শিক্ষার্থীরা যেন সুষ্ঠুভাবে স্বাভাবিক ক্লাস সম্পন্ন করতে পারে, সে স্বার্থে ক্যাম্পাসের ভেতরে রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। আমরা সেটিকে সাধুবাদ জানিয়েছি। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের প্রথম কমিটি হয় ২০২২ সালের নভেম্বরে। আমি দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। এখন আমি আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে সরকারের বাধা ছিল, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন আমরা হইনি। আমরা ঢাকায় এবং ক্যাম্পাসের আশপাশে আমাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। ক্যাম্পাসের ভেতরে আমরা কোনো ধরনের রাজনৈতিক মুভমেন্ট করি না। কারণ, আমরা চাই শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকুক। এজন্য আমাদের মিছিল, মিটিং ও সমাবেশগুলো আমরা ক্যাম্পাসের বাইরে করি। তবে আলোচনা সভা কিংবা মতবিনিময় সভাগুলো আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ইনশাআল্লাহ করব।’

সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তোফায়েল হোসেন বলেন, ‘একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে পদের চেয়ে বড় আমার কাছে সংগঠনের আদর্শ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার। ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং ক্যাম্পাসে গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করব।’

সদস্য সচিব নাইম আহমেদ নয়ন বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কমিটি হওয়ায় ক্যাম্পাসের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটির মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের জ্ঞান বিকাশ ও রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়বে বলে আশা করছি।’