প্রচ্ছদ জাতীয় গরমে সুস্থতার জন্য যে পরামর্শ দিলেন নরেন্দ্র মোদি

গরমে সুস্থতার জন্য যে পরামর্শ দিলেন নরেন্দ্র মোদি

দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ মুহূর্তে তাপপ্রবাহ চলছে। দিন দিন তাপমাত্রার পারদ বেড়েই চলছে। এতে অসুস্থ হচ্ছেন অনেকেই। হিটস্ট্রোকের সাবধানতা দিয়েছেন চিকিৎসকরা। দেশের কয়েকটি রাজ্যে হিটস্ট্রোকে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। তাই সচেতন থাকাটা ভীষণ জরুরি। রোদে বেরোনো ছাড়া গতি নেই। গরমে বাইরে থেকেও যাতে শরীর সুস্থ থাকে, সেই পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১৩৪তম পর্বে দেশের নানা প্রান্তের এমন কিছু পানীয়ের কথা বলেছেন, যা পান করলে শরীর ঠান্ডা থাকবে এবং পানিশূন্যতার ঝুঁকিও কমবে।

এ শরবতগুলো দোকান থেকে কেনা কোনো এনার্জি ড্রিংক নয়। খাঁটি দেশি পানীয়। সেই তালিকায় রয়েছে আমপন্না, বেলের শরবত, পানাকম, কোকাম, গুড়ের শরবত।

প্রধানমন্ত্রীর কথায়, দেশের সংস্কৃতি ও খাদ্য ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন এই পানীয়। কেবল তৃষ্ণা মেটানোর উপকরণ নয়, এসব পানীয়ের সঙ্গে দেশের নানা প্রান্তের মানুষের আবেগ ও খাদ্যাভ্যাসও জড়িয়ে রয়েছে। তাই এসব পানীয় যে কোনো বাজারচলতি পানীয়ের চেয়ে অনেক বেশি ভালো ও স্বাস্থ্যকর। তৈরি করতে ভেষজ উপাদানই লাগে। কাজেই শরীর খারাপ হওয়ার ঝুঁকিও কম থাকে।

গরমে কিছু শরবত খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চলুন জেনে নেওয়া যাক—

গরমে নিজেকে গলা ভেজাতে লস্যির বিকল্প নেই। লস্যি দই দিয়েই তৈরি। তাই এতে থাকা প্রোবায়োটিক হজমে সাহায্য করে। কারণ দইয়ে আছে ইলেকট্রোলাইট, যা গরমে আপনার শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি। আর স্বাদে অতুলনীয়। অতিপছন্দের এই পানীয় এখন বাঙালিদেরও পছন্দের তালিকায় উঠেছে।

দইয়ের ঘোল

লস্যির চেয়ে খানিক হালকা দইয়ের ঘোল। বিশেষ করে টকদইয়ের সঙ্গে ভাজা জিরেগুঁড়ো পুদিনাপাতা, বিট লবণ সহযোগে তৈরি ঘোল খেলে পেটও ভরা থাকে, আপনার শরীরও ভালো থাকবে। ঘোল হজমেও সহায়ক। গরমের দিনে দুপুরের খাওয়ার পর এক গ্লাস ঘোল খাওয়া অত্যন্ত উপকারী।

প্রতিদিন সকালের ব্যস্ততায় ভারি খাবার খাওয়ার সময় নেই? এক গ্লাস ছাতুর শরবতই অনেকক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখবে। ছাতুর অনেক গুণ। দামেও কম। ছাতুতে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়ামের মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, যা আপনার শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে। একটা সময়ে রোদে ঘুরে খেটে খাওয়া মানুষের আহার ছিল ছাতুর শরবত, আর এখন ডায়েট পানীয় হিসেবেও এর নামডাক হয়েছে।

বেলের পানার শরবত আজকের নয়, বহু বছরের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। আগে পাকা বেল ফলের শাঁসের সঙ্গে পানি, গোলমরিচ বা লংকা, লবণ, পুদিনাপাতা, চিনি এবং লেবুর রস মিশিয়ে তৈরি হতো বেলের শরবত। এখন লেবু, লবণ আর চিনি মিশিয়ে তৈরি হয়। গরমকালে আপনার শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য অনেক বাড়িতেই বেলের পানা খাওয়ার চল রয়েছে। কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটফাঁপা ও হজমের গোলমাল সারাতেও এ পানীয় বেশ কাজ করে।

কোকাম শরবত

দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে কোকাম ফল শুকিয়ে তার খোসা থেকে শরবত তৈরি করা হয়। সামান্য টক-মিষ্টি শরবতটি পেট ঠান্ডা রাখে। এতে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা গরমে আপনার শরীরের ক্লান্তি দূর করে দেয়।

আমপন্না

অরুচিতে রুচি ফেরায় আমপন্না। গরমে পেট ঠান্ডা করে। দেশের নানা প্রান্তে আমপ্রেমীদের অতিপছন্দের পানীয় আমের পানা বা পন্না। কাঁচা আমবাটা, নানা মসলা সহকারে পুদিনপাতা ছড়িয়ে চিনি বা গুড় মিশিয়ে তৈরি আমপন্না ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকিও কমায়।

পানাকম পানীয় দেবতার ভোগে অর্পণ করা হয়। চৈত্র-বৈশাখের প্রখর গরমে সেই পানীয় নিমেষে শীতল করতে পারে আপনার শরীর ও মন। এর ঔষধি গুণও কম নয়। গুড়, পানি, লেবুর রস এবং এলাচ বা আদা মিশিয়ে তৈরি পানীয়টি পিত্তদোষ দূর করতে এবং হজমের সমস্যা মেটাতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।