প্রচ্ছদ আর্ন্তজাতিক কিছুটা কমেছে তেলের দাম

কিছুটা কমেছে তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা আশাবাদ তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমঝোতার আলোচনা এগোনোর খবরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তির ইঙ্গিত মিলছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে কমেছে। শুক্রবার (৩০ মে) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দামও ৮৭ ডলারের ঘরে অবস্থান করে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা এবং হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় চালুর সম্ভাবনা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার কারণে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতির খবরে মে মাসের শেষদিকে বাজারে বড় ধরনের সংশোধন দেখা গেছে।

ট্রেডিং ইকোনমিকসের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসজুড়ে WTI অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ কমেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় মাসিক পতন।

এদিকে ভারত সরকারও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় পেট্রোল, ডিজেল ও এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের (এটিএফ) রপ্তানি শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। ১ জুন থেকে নতুন এই শুল্কহার কার্যকর হবে।

তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ভেস্তে গেলে কিংবা হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলে জ্বালানি তেলের বাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।

সর্বশেষ বাজার তথ্য অনুযায়ী—

ব্রেন্ট ক্রুড: প্রায় ৯১-৯২ ডলার প্রতি ব্যারেল
ডব্লিউটিআই ক্রুড: প্রায় ৮৭-৮৮ ডলার প্রতি ব্যারেল

সূত্র: রয়টার্স