
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন। এই সফরে তার সফরসঙ্গী রয়েছেন ২২ জন—এমন তথ্য দিয়েছেন লন্ডন হাইকমিশনের সাবেক প্রেস মিনিস্টার ও বিবিসি বাংলার সাবেক সাংবাদিক আকবর হোসেন।
গতকাল মঙ্গলবার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক ভিডিওতে তিনি এ তথ্য জানান। সেখানে সফরসঙ্গীর সংখ্যা ও সম্ভাব্য ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই সাংবাদিক। তিনি বলেন, এমন এক সময়ে প্রেসিডেন্ট লন্ডন সফরে গেলেন, যখন বাংলাদেশ সরকার বলছে, তাদের কৃচ্ছতা সাধন করতে হবে। বিভিন্ন পদক্ষেপ সরকার নিচ্ছে।
ভিডিওতে আকবর হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গেছেন সম্প্রতি। ৯ দিন থাকবেন ওখানে। বিভিন্ন চেকআপ করাবেন। কারণ, এর আগে সিঙ্গাপুরে তার (প্রেসিডেন্ট) ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছিল। তার ফলোআপ ট্রিটমেন্ট অর্থাৎ যে রেগুলার চেকআপ হয়, সেজন্য। এটা কিন্তু নতুন কোনো চিকিৎসা না। এই সফরে তার সঙ্গে গেছেন ২২ জন।
এ পর্যায়ে বিবিসি বাংলার সাবেক এই সাংবাদিক প্রশ্ন রেখে বলেন, কিন্তু আপনি দেখেন এই যে, ২২ সদস্যের একটা প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সেখানে গেলেন, আমি ধরে নেই একজনের প্লেন ভাড়া ২ লাখ টাকা করে যদি হয়, তাহলে ২২ জনের ৪৪ লাখ টাকা। নয় দিন লন্ডনে থাকবেন । লন্ডন ও ক্যামব্রিজে মিলিয়ে থাকবেন তারা। তিনি লন্ডনে যে হোটেলটিতে থাকবেন- নাম হিল্টন অন পারকলাইন। একেবারে সেন্ট্রাল লন্ডনে অবস্থিত। আমি হিলটন অন পার্কলাইনের ওয়েবসাইটে ঢুকলাম । বুকিং ডট কম-এর ওয়েবসাইটে গিয়ে চেক করলাম সেখানে সর্বনিম্ন রুম ভাড়া ৩০০ পাউন্ডের কম না। এছাড়া তারা ক্যামব্রিজে থাকবেন তিনদিন। সেখানে যে হোটেলটিতে থাকবেন, তার নাম বেডফোর্ড লজ। এই হোটেলটি তো মোটামুটি আমি যেটা বুকিং ডট কমে ঢুকে দেখলাম- যদি সেখানে তিনদিন থাকতে হয় জনপ্রতি প্রায় ২২০ পাউন্ড করে খরচ হবে। সব মিলিয়ে এই প্রতিনিধি দলের হোটেল বাবদ খরচ প্রায় এক কোটি টাকার কাছাকাছি । এক কোটি না হলেও ৮০-৯০ লাখ টাকা হোটেলের বিল হবেই। অন্যদিকে প্লেন ভাড়া প্রায় ৪৫-৫০ লাখ টাকার মতো। তিনি ক্যামব্রিজে যে মেডিকেলে চিকিৎসা নেবেন সেটা তো ফ্রি অব কস্ট না। ওখানেও পে করতে হবে। সবকিছু যদি মিলিয়ে দেখেন আমার একটা ধারণা- প্রায় ২ কোটি টাকার মতো খরচ হবে এ ট্রিপে। আরো বেশিও হতে পারে, আমি জানিনা। কিন্তু দুই কোটি টাকা আমার মনে হচ্ছে মিনিমাম। এই সময়ে কেন এই দুই কোটি টাকা শুধু হেলথ চেকআপের জন্য?
আকবর হোসেন আরও বলেন, তিনি তো গেছেন তার শারীরিক পরীক্ষার জন্য। আমি ধরে নিলাম যে, ঠিক আছে- শারীরিক পরীক্ষা করাতে হবে। কিন্তু দুই নাতি সফরসঙ্গী হিসেবে বা তার সঙ্গে কেন যাবেন? তাদের কি এখানে খরচ নেই? এই খরচ কি সরকার বহন করছে নাকি রাষ্ট্রপতি নিজের তহবিল থেকে দিচ্ছেন এটা আমার জানা নেই। সুতরাং আমার মনে হয়, এসব ক্ষেত্রে আমাদের তো এমনিতে একটা বাতিক আছে। কোনা কিছু হলে আমাদের যারা রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তি তারা সোজা দেশের বাইরে চলে যান। একটু হাঁচি-কাশি হলেও দেশের বাইরে ট্রিটমেন্ট করাতে যান।












































