প্রচ্ছদ জাতীয় নাসির-তামিমার সাজা হলে সমাজে ব্যভিচার দূর হবে

নাসির-তামিমার সাজা হলে সমাজে ব্যভিচার দূর হবে

অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগে ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে করা মামলার রায়ের দিন আগামী ১০ জুন ধার্য করেছেন আদালত।

বুধবার (৬ মে) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম রায়ের দিন ধার্য করেন।

এরপর বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান গণমাধ্যমে এ প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘ক্রিকেটার নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে এ মামলায় যদি সাজা হয়, তাহলে সমাজ থেকে ব্যভিচার, পরকীয়া, সংসার রেখে চলে যাওয়া এবং ডিভোর্স না দিয়ে এ ধরনের অপকর্ম করা দূর হবে। কারণ এমন কয়েকটি মামলায় সাজা হলেই সমাজে বার্তা যাবে। সমাজের ব্যভিচার বন্ধ হওয়ার জন্য এ মামলায় কঠোর দৃষ্টান্তমূলক সাজা হওয়া উচিত।’

আইনজীবী আরও বলেন, ‘এটা একটা এক্সসেপশনাল কেস। কারণ স্ত্রী তালাক না দিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করলে পুরুষরা সাধারণত লাজ-লজ্জার ও সামাজিকতার ভয়ে বিচারের জন্য কোর্টে আসতে চান না। একই বিষয় যখন কোনো নারীর সাখথ হয়, তখন সমাজ থেকে সিমপ্যাথি পান। কিন্তু পুরুষের ক্ষেত্রে হয় উল্টো। অনেকে বলে বউ গেছে গেছে, আরেকটা বিয়ে করো। কিন্তু বাদী চলে যাওয়া বউকে ফেরত চাইতে আদালতে আসেননি। তিনি মূলত সমাজে এই বার্তা দিতে চান, যেন কেউ অপরাধ করে গেলে মুখ বুঝে মেনে নেয়া নয়। বিচারের মাধ্যমে ব্যভিচার দূর করা।’

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। মামলাটিতে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি একই আদালত ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। তবে নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাম্মির সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তাম্মি ও রাকিবের বিয়ে হয়। তাদের আট বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। তাম্মি পেশায় একজন কেবিন ক্রু। ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে তাম্মি ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। পরে পত্র-পত্রিকায় তিনি ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ জানেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান অবস্থাতেই তাম্মি নাসিরকে বিয়ে করেছেন; যা ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। তাম্মিকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন নাসির। তাম্মি ও নাসিরের এমন অনৈতিক ও অবৈধ সম্পর্কের কারণে রাকিব ও তার আট বছর বয়সী কন্যা মারাত্মভাবে মানসিক বিপর্যস্ত হয়েছেন। আসামিদের এমন কার্যকলাপে রাকিবের চরমভাবে মানহানি হয়েছে, যা তার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।