প্রচ্ছদ জাতীয় র’ণক্ষেত্র কুমিল্লা

র’ণক্ষেত্র কুমিল্লা

কুমিল্লার মেঘনা ও তিতাস উপজেলার সীমান্তবর্তী চর বিনোদনপুর এলাকায় চরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে ২ উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (১৫ জুন) সকাল থেকে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১০টি ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং একটি মুদি দোকান থেকে টাকা লুটের অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিরোধপূর্ণ ওই চরভূমি নিয়ে দুই উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মালিকানা ও লিজ সংক্রান্ত জটিলতা চলে আসছে। ১৯৯০ সালে মেঘনা উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের কিছু জমি লিজ দেওয়া হলেও পরে ১৯৯৯ সালে তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের নতুন বাটেরা এলাকার বাসিন্দারাও একই ধরনের লিজ পান। এরপর থেকেই জমির দখল ও ভোগদখল নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়।

এলাকাবাসীর দাবি, জমিটি মূলত বাটেরা মৌজার অন্তর্ভুক্ত। সিএস ও এসএ রেকর্ডে আলীপুর গ্রামের কিছু ব্যক্তির নাম থাকলেও পরবর্তীতে বিএস রেকর্ডে তা সরকারি খাসজমি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকালে উভয় পক্ষ টেঁটা, রামদা, চাপাতি, ভল্লম, হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। এতে অনেকের মাথা, হাত ও পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে।

নতুন বাটেরা এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, মেঘনা উপজেলার আলীপুর ও বিরনপুর এলাকা থেকে একটি দল ট্রলারে এসে অতর্কিতে হামলা চালায়। তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির বাড়িসহ বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে এবং একটি দোকান থেকে প্রায় এক লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

অন্যদিকে, মেঘনা উপজেলার বাসিন্দাদের দাবি, তারা বৈধভাবে লিজপ্রাপ্ত জমির দখল নিতে গেলে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন এবং তাদের পক্ষেরও বহু মানুষ আহত হন।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন ফারুক, আনোয়ার হোসেন, রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর আলম, রবি মোল্লা, সাগরসহ অন্তত ৩৫ জন। তাদের মেঘনা ও তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহত কয়েকজন জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই চরভূমি ভোগদখল করে আসছেন এবং আইনগতভাবে মালিকানা নির্ধারণের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চান।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় দুই উপজেলার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মেঘনা থানার ওসি শহীদুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

তিতাস থানার ওসি মমিরুল হক বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।