
নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে র্যাব-১৪। সংস্থাটি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার এড়াতে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর স্থান পরিবর্তন করে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন এবং সে সময় তিনি মোবাইল ফোনও ব্যবহার করেননি।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরের আকুয়া বাইপাস এলাকায় র্যাব-১৪ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির অধিনায়ক নয়মুল হাসান এ তথ্য জানান।
ব্রিফিংয়ে র্যাব-১৪ অধিনায়ক বলেন, গ্রেপ্তার এড়াতে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। মোবাইল ফোনও ব্যবহার করছিলেন না।
তিনি বলেন, ‘র্যাব-১৪ ময়মনসিংহ এই চাঞ্চল্যকর মামলার ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ময়মনসিংহের গৌরীপুরের সোনামপুর এলাকা থেকে আসামি আমানুল্লাহকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র্যাব।’
মোবাইল ফোন ছিল না সেই মাদ্রাসা শিক্ষকের, মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
বেসরকারি শিক্ষকদের বদলিতে নতুন নীতিমালা, সর্বোচ্চ সুযোগ তিনবার
র্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি তেমন কোনো তথ্য দেননি। তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পুলিশ প্রয়োজনে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক প্রায় চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি নানার বাড়িতে থেকে সেখানে পড়াশোনা করত। পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে শিশুটির মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন ও অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে তার মা বাড়িতে এসে বিষয়টি জানতে পারেন।
পরবর্তীতে গত ১৮ এপ্রিল শিশুটিকে মদন উপজেলা শহরের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরপর শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে আসছিল।
এদিকে গ্রেপ্তারের আগের দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে অভিযুক্ত শিক্ষক নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। একইসঙ্গে, শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা চিকিৎসক হুমকি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে র্যাব জানায়, চিকিৎসকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথিত ডিএনএ রিপোর্ট সম্পর্কিত তথ্য সঠিক নয় বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।













































