প্রচ্ছদ জাতীয় বগুড়ায় থানা ঘেরাও-মহাসড়ক অবরোধ, নেপথ্যে কি

বগুড়ায় থানা ঘেরাও-মহাসড়ক অবরোধ, নেপথ্যে কি

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষোভে এলাকা উত্তাল হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে অভিযুক্তের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষুব্ধ জনতা থানা ঘেরাও, বিক্ষোভ মিছিল এবং বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়ক অবরোধ করে।

প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী এই অবরোধে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত বিচার আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দেওয়া হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সে ধাপসুখানগাড়ী মহল্লায় ইদ্রিস আলীর স্ত্রী গুলশান আরার কাছে প্রাইভেট পড়তে যায়। শিক্ষক বাড়িতে না থাকার সুযোগে ইদ্রিস আলী শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। শিশুটি বাড়িতে ফিরে পরিবারকে বিষয়টি জানালে ওই রাতেই তার বাবা বাদী হয়ে দুপচাঁচিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তারকৃত ইদ্রিস আলী নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার হলুদ বিহার এলাকার মৃত আক্কাস আলীর ছেলে। তিনি ব্র্যাক-এর দুপচাঁচিয়া শাখার সাবেক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং বর্তমানে ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

মঙ্গলবার সকালে বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ওসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঘটনার বিচার দাবি করেন। এরপর দুপুর ১২টার দিকে তারা বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের থানা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী এই অবরোধে রাস্তার দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।

পরবর্তীতে দুপচাঁচিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাসিরুল ইসলাম এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ও প্রধান শিক্ষক বিক্ষুব্ধ জনতাকে দ্রুত বিচার আইনে সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজমিলুর রহমান জানান, মামলা দায়েরের পরপরই প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) ভর্তি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।