প্রচ্ছদ জাতীয় এনসিপি থেকে পদত্যাগকারী ৩০ নেতাকর্মী যোগ দিলেন যে দলে

এনসিপি থেকে পদত্যাগকারী ৩০ নেতাকর্মী যোগ দিলেন যে দলে

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জেলা কমিটি থেকে পদত্যাগকারী ৩০ নেতাকর্মীসহ শতাধিক বিভিন্ন শ্রেণি, পেশার মানুষ গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএ) দলে যোগদান করেছেন। মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে রাঙামাটির আশিকা কনফারেন্স হলে যোগদান অনুষ্ঠান উপলক্ষে আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়।

প্রধান সমন্বয়কারী ভারপ্রাপ্ত দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গণসংহতি আন্দোলন নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল। কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য সৈয়দ হাসান মারুফ রুমী, মনির উদ্দিন পাপ্পু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সৈয়দ সীমুল, বান্দরবান জেলা পরিষদ সদস্য উবা থোয়াই মারমা প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, গণসংহতি আন্দোলন সবসময় ন্যায় ও মানুষের অধিকারের কথা বলে। বাংলাদেশ একটি বিভিন্ন জাতি, বহু গোষ্ঠীর রাষ্ট্র। আমরা সবার অধিকার নিয়ে আন্দোলন বরাবরই আমরা রাজপথে ছিলাম, আছি এবং থাকব।

বক্তারা আরও বলেন, অনেকেই বলেন আমরা কি সরকারি দল। দল আর সরকার এক নয়। এই ধারণার কারণে আমাদের দেশে ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছে। তাই সরকার আর দল এই দুটিকে সবসময় পৃথক করে ভাবে। সরকারে থেকে সরকারকে নাগরিকের অধিকারের কথা মনে করিয়ে দেয়াই হবে আমাদের কাজ। আমরা ক্ষমতা নয় মানুষের জন্য রাজনীতি করি।

যোগদান অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির জেলা কমিটির সাবেক আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক উজ্জ্বল চাকমা ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি কেন্দ্রীয় কমিটি যুগ্ম-আহ্বায়ক কলিন্স চাকমার নেতৃত্বে ৩০ জনসহ শতাধিক লোক গণসংহতি আন্দোলনে যোগদান করেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক উজ্জ্বল চাকমা বলেন, আমরা অনেক আশা ও পরিবর্তনে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা তাদের সেই আদর্শ থেকে সরে গেছেন। তারা এখন যে আদর্শ ধারণ করেন সেটা আমাদের সঙ্গে যায় না। তাই পদত্যাগ করেছিলাম। আজ গণসংহতি আন্দোলনে যোগ দিলাম। আশা করি এবার আমাদের লক্ষ্য পূরণ হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জেলা কমিটির জাতীয় শ্রমিক শক্তি কেন্দ্রীয় কমিটি যুগ্ম আহ্বায়ক কলিন্স চাকমা বলেন, আমরা দেখেছিলাম দলটি (এনসিপি) পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে এসেছিল। কিন্তু তারা জাতীয় নির্বাচনে তৃণমূলের মতামত না নিয়েই নির্বাচনি জোট করেছে। প্রার্থী নির্বাচন করেছেন। তখনই আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম। আমাদের মতামতকে প্রাধান্য না দেয়া, আদর্শ থেকে বিচ্যুতি হওয়ায় দলটি থেকে পদত্যাগ করেছি। এখন গণসংহতি আন্দোলনে যোগ দিলাম। আমরা দেখেছি দলটি সঠিক ভাবে পরিবর্তনের অঙ্গিকার নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আমি নতুন বাংলাদেশের যে স্বপ্ন দেখছি তা গণসংহতি আন্দোলন দলটির মধ্যমে করতে পারবো বলে বিশ্বাস করি।

প্রধান সমন্বয়কারী ভারপ্রাপ্ত দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু বলেন, পাহাড়ে যারা বসবাস করে তাদের যে সংস্কৃতি, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এগুলো রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পাহাড়ের মানুষের আলাদা যে অস্তিত্ব আছে সেই অস্তিত্বকে স্বীকার করতে হবে রাষ্ট্রকে। বাংলাদেশ একটি বাহু জাতিক রাষ্ট্র এই হিসেবে নতুন করে রাষ্ট্রকে গঠন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দলের নীতিকে রাষ্ট্রের নীতি হিসেবে চাপিয়ে দেয়ার অধিকার কোনও দলের নাই। অবশ্যই সংবিধান সংস্কার প্রয়োজন। তবে তা কারো স্বার্থে সংস্কার করতে চায় তাহলে কোন প্রয়োজন নেই। আমরা পাহাড় ও সমতলে একসঙ্গে নতুন করে গন-সংহতির পথচলা শুরু হওয়ার সাথী হলেন আপনারা। খুব দ্রুতই জেলা কমিটি ঘোষণা দেয়া হবে বলে জানান কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।