
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘চব্বিশের অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।’
আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন। এসময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। পরিদর্শনের সময় ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউশন টিমের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম বৈঠক করলাম। এখানে কি কি সমস্যা আছে সেগুলো জানলাম। আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় এবং আমাদের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সমস্যাগুলো কিভাবে মোকাবেলা করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করলাম এবং ভবিষ্যতে আমরা এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেব।’
প্রসিকিউশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সবগুলো বিষয়ই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পদক্ষেপ নিয়েছি। প্রসিকিউশনের কারো বিরুদ্ধে এমন কোনো পদক্ষেপ আগে নেওয়া হয়েছে বলে নজির নেই। আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। এটা সামনেও চলমান থাকবে।’
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগসহ হাইকোর্টের বিচারকক্ষে (এজলাশে) সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে না দেওয়া নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সিদ্ধান্তটি প্রধান বিচারপতির প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।
বিচারিক কোনো সিদ্ধান্ত নয়। কেন নিয়েছেন সেটি তিনি ভালো জানেন। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সাংবাদিকদের মানববন্ধনের বিষয়টি আমার দৃষ্টিতে এসেছে। প্রধান বিচারপতির নজরে এসেছে বলেও বিশ্বাস করি। তাই মেধা, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে তিনি এটি পুনর্বিবেচনা করবেন বলে আমি আশা করি।’
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বয়স ৬৭ থেকে কমিয়ে ৬৫ করার আলোচনা নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে মো. আসদুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের একটা সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভায় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিষয়টা উত্থাপন করা হয়েছিল। আমরা বলেছি এ বিষয়ে আলোচনার ফোরাম এটা না। আমাদের সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত যে কমিটি হবে সেই কমিটিতে এটা উত্থাপন করলে তখন আমরা আলোচনা করে দেখব। কারণ এটার সাথে সংবিধান সংশোধন জড়িত।’
উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গত বছরের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এই মামলায় তাঁর সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও। মামলায় রাজসাক্ষী হওয়ায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে দেওয়া হয় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরো একাধিক মামলা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।












































