
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এ নির্বাচনে বেশ পিছিয়ে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস। তার পতন হলে কেবল বিজেপিই নয়, লাভবান হতে পারে ভারতের ন্যাশনাল কংগ্রেসও।
সোমবার (০৪ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পতনে শুধু গেরুয়া শিবিরই নয়, লাভবান হতে পারে ভারতের ন্যাশনাল কংগ্রেসও। দলটি তৃণমূল কংগ্রেসের সহযোগী দল হিসেবে ইন্ডিয়া জোটে রয়েছে। তৃণমূল নেত্রীর রাজনৈতিক গুরুত্ব কমে গেলে জাতীয় স্তরে বিরোধী রাজনীতির নেতৃত্ব নিয়ে কংগ্রেসের সামনে যে চ্যালেঞ্জ ছিল, তা অনেকটাই কমে যাবে।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বিরোধী জোটের নেতৃত্ব নেওয়ার বিষয়ে মমতার ইচ্ছার প্রথম ইঙ্গিত মেলে। এ বছর লোকসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এটির আভাস পাওয়া যায়। তখন তিনি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের নাম প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে প্রস্তাব করেন। এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। অনেকের মতে, এটি রাহুল গান্ধীকে স্বাভাবিকভাবে বিরোধী শিবিরের প্রধান মুখ থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি কৌশল ছিল।
২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেস তুলনামূলক ভালো ফল করে এবং রাহুল গান্ধী লোকসভায় বিরোধী দলনেতা হন। তবে এরপরও মমতাই প্রকৃত বিরোধী নেত্রী—এমন আলোচনা চলতে থাকে। একই বছর তৃণমূল ছয়টি উপনির্বাচনে জয়ী হয়। অন্যদিকে, কংগ্রেস হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রে বিজেপিকে হারাতে ব্যর্থ হলে এই দাবি আরও জোরালো হয়।
২০২৪ সালের নভেম্বরে তৃণমূল এমপি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘গত তিন-চার বছরে তারা কী করেছে? ইন্ডিয়া জোটে নেতা কে? কেউ নেই। এখন একজনকে বেছে নেওয়া দরকার। কংগ্রেস ব্যর্থ হয়েছে। বিষয়টি হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রে প্রমাণিত হয়েছে। শুধু কংগ্রেস নয়, আমরা সবাই হেরেছি। আমরা কংগ্রেসের ওপর ভরসা করেছিলাম, কিন্তু তারা ফল দিতে পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমালোচনা করেছে, কিন্তু আমরা পশ্চিমবঙ্গে ছয়টির ছয়টিই জিতেছি। মানুষ তাঁর ওপর আস্থা রেখেছে। তিনি একজন লড়াকু নেতা। এমপি ও রেলমন্ত্রী হিসেবে তার অভিজ্ঞতাও বেশি।’
এনডিটিভি জানিয়েছে, এ ঘটনার এক মাস পর মমতা নিজেও জানান যে তিনি ইন্ডিয়া জোটের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, ‘আমি ইন্ডিয়া জোট গড়েছি, এখন যারা নেতৃত্বে আছেন, তাদেরই সেটা চালাতে হবে। যদি তারা না পারেন, তাহলে আমি কী করব? সুযোগ পেলে আমি নিশ্চিতভাবে জোটকে মসৃণভাবে চালাতে পারব।’
এই প্রেক্ষাপটে কংগ্রেসের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দেয় অন্যান্য মিত্রদের সমর্থন। লালু প্রসাদ যাদব প্রকাশ্যে বলেন, বন্দ্যোপাধ্যায়কে জোটের নেতৃত্ব দেওয়া উচিত। কংগ্রেস আপত্তি করলেও তাতে কিছু যায় আসে না। একইভাবে শিব সেনার উদ্ধব ঠাকরে শিবিরও মমতার নেতৃত্বে বিরোধীরা আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেয়।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, বিজেপিকে হারানোর ‘জয়ের ফর্মুলা’ একমাত্র তাঁর দলের কাছেই আছে। পরবর্তী সময়েও তিনি বারবার বলেন, কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধী একা লড়লে হেরে যায়, কিন্তু তিনি বিজেপির ‘পূর্ণ শক্তি’ মোকাবিলা করে জয়ের প্রমাণ দিয়েছেন।
এ বছরের নির্বাচনের আগেও তিনি জাতীয় রাজনীতিতে নিজের ভূমিকার ইঙ্গিত দেন। কলকাতার এক সভায় তিনি বলেন, ‘বাংলায় জয়ের পর দিল্লিতেও আমরা বিজেপিকে সরিয়ে দেব। সব বিরোধী দলকে একত্র করে এই কাজ করব।’ তবে সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাওয়া পূর্বাভাস বলছে, ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় তার দল ১০০ আসনও পেরোতে পারবে না।











































