
অনলাইন জুয়ার টাকার জন্য স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মাজারুল ইসলাম সবুজ (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আড়াইহাজার থানার ওসি মো. সাবজেল হোসেন।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামে এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর আগে মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা মাজারুল ইসলাম সবুজের সঙ্গে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের মধ্যপাড়া এলাকার তানিয়ার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
তানিয়ার অভিযোগ, সবুজ দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। জুয়া খেলার টাকার জন্য তিনি প্রায়ই তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। সম্প্রতি সবুজ নিজের এবং তার মায়ের বেতনের প্রায় ৭০ হাজার টাকা অনলাইন জুয়ায় হেরে যান।
তানিয়া এজাহারে উল্লেখ করেন, গত ৯ জুন সন্ধ্যায় অনলাইন জুয়া খেলতে বাধা দিলে সবুজ তাকে বেদম মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং বাবার বাড়ি থেকে এক লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। নিরুপায় হয়ে তানিয়া দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন।
ভুক্তভোগী জানান, গত ১৩ জুন সকালে সবুজ ফোনে আবারও এক লাখ টাকা দাবি করেন। তানিয়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বেলা ১১টার দিকে সবুজ শ্বশুরবাড়িতে চড়াও হন। শ্বশুরবাড়ির লোকজন সে সময় বাইরে থাকার সুযোগে সবুজ ঘরে প্রবেশ করে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর তাকে মারধর শুরু করেন এবং একপর্যায়ে দুই হাতে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালান।
তানিয়ার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে দরজা ভাঙার চেষ্টা করেন। এ সময় জানালার ফাঁক দিয়ে বাইরে থেকে কয়েকজন মোবাইলে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, জানালার ওপাশ থেকে স্থানীয়রা সবুজকে বারবার অনুরোধ করছেন গলা ছেড়ে দেওয়ার জন্য। পরে স্থানীয়রা দরজা ভেঙে তানিয়াকে উদ্ধার করেন এবং সবুজকে গণধোলাই দিয়ে আটকে রাখেন।
আহত তানিয়াকে দ্রুত আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন।
এদিকে, নির্যাতনের এই নির্মম ভিডিওটি স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদের নজরে আসলে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দেন।
আড়াইহাজার থানার ওসি মোহাম্মদ সাবজেল হোসেন বলেন, ‘ভুক্তভোগী স্ত্রীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আমরা আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি এবং আজই তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত সবুজের বিরুদ্ধে আগে থেকেই আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল।’











































