প্রচ্ছদ আন্তর্জাতিক ইরানের তাড়া খেয়ে যেভাবে হরমুজ থেকে পালাল মার্কিন যুদ্ধজাহাজ

ইরানের তাড়া খেয়ে যেভাবে হরমুজ থেকে পালাল মার্কিন যুদ্ধজাহাজ

হরমুজ প্রণালিতে গত সপ্তাহে সংঘটিত একটি উত্তেজনাপূর্ণ সামরিক মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি। তাদের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে একাধিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত করেছিল, যার পরপরই মার্কিন বাহিনী দ্রুত হরমুজ থেকে পালিয়ে যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১ এপ্রিল হরমুজ প্রণালিতে আইআরজিসির নৌবাহিনী ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যে এই মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হয়। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস মাইকেল মারফি (ডিডিজি-১২) এবং ইউএসএস ফ্র্যাংক ই পিটারসন (ডিডিজি-১২১) প্রথম সতর্কবার্তা উপেক্ষা করলে আইআরজিসি নৌবাহিনী জাহাজ দুটির ওপর ১৬টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র লক করে।

এরপর মার্কিন বাহিনীকে জানানো হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তারা যদি প্রণালি ত্যাগ না করে, তবে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় মার্কিন সেনারা আইআরজিসির কাছে ১৫ মিনিট সময় চায়।

জানা গেছে, এই সময়ের মধ্যে তারা নিজেদের কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্দেশনা নেওয়ার চেষ্টা করে। পুরো উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি এক ঘণ্টারও কম সময় স্থায়ী হয় এবং শেষ পর্যন্ত মার্কিন ডেস্ট্রয়ারগুলো দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।

এর আগেও ১২ এপ্রিল প্রকাশিত এক অনুসন্ধানে প্রেস টিভি জানিয়েছিল, ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা চলাকালে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে মার্কিন বাহিনী এক অভিযান চালায়, যা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্কিন নৌবাহিনীর এই দুইটি আরলেই বার্ক শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে আইআরজিসি নৌবাহিনী তা প্রতিহত করে এবং পিছু হটতে বাধ্য করে।

তদন্তে দাবি করা হয়, জাহাজ দুটি নিজেদের পরিচয় গোপন করে ওমানের বাণিজ্যিক জাহাজ হিসেবে ছদ্মবেশে সমুদ্রপথে চলাচল করছিল। তারা উপকূলের খুব কাছাকাছি ও অগভীর পানির পথ ব্যবহার করে গোপনে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে, যাতে আইআরজিসি বাহিনী তাদের শনাক্ত করতে না পারে।

তবে ফুজাইরাহ উপকূলের আশপাশে টহলরত আইআরজিসি নৌবাহিনী আগেই এই কৌশল শনাক্ত করে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যর্থ অভিযানটি মূলত যুদ্ধবিরতির সময়কে কাজে লাগিয়ে ইরানের নৌবাহিনীর প্রস্তুতি যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছিল।