
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব কাঠামোতে বড় ধরনের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। এ পরিস্থিতিতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মোজতবা খামেনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তাজনিত কারণে মোজতবা খামেনি বর্তমানে একটি অজ্ঞাত ও অত্যন্ত গোপন স্থানে অবস্থান করছেন। তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, এবং বিশেষ দূত ও বার্তাবাহকদের মাধ্যমে সীমিত আকারে যোগাযোগ চলছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানায়, এই জটিল যোগাযোগ ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় বাধা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটনের পাঠানো প্রস্তাব ও তেহরানের জবাব পৌঁছাতে সময় লাগছে অনেক বেশি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রশাসনের সময়কার আলোচনায় মোজতবা খামেনির পরোক্ষ সম্মতি থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তার অবস্থান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া অনেক বেশি গোপন ও ধীরগতির হয়ে গেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান, যাকে প্রতিবেদনে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ বলা হয়েছে, তার পর থেকেই ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকেই প্রকাশ্যে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। কেউ কেউ দীর্ঘ সময় ধরে বাঙ্কার বা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহারের কারণে দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতা নিজেদের অবস্থান গোপন রাখছেন। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াও ধীর হয়ে পড়েছে।
তবে হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘এ কারণেই প্রায়ই শোনা যায়—সর্বোচ্চ নেতা কাঠামোগত বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন, অথবা চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে তার জবাবের অপেক্ষা চলছে। তার কাছে পৌঁছানো প্রতিটি তথ্যই কিছুটা পুরোনো হয়ে যায় এবং তার জবাব আসতেও অনেক দেরি হয়।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মোজতবা খামেনি ইতোমধ্যে তার অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। কোন কোন বিষয়ে আলোচনা করা যাবে এবং কোন বিষয় এড়িয়ে চলতে হবে, সে সম্পর্কেও তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন।
সূত্র: সিবিএস নিউজ











































