প্রচ্ছদ জাতীয় জ্ঞান ফেরার পর শুনি বিয়ে হয়েছে

জ্ঞান ফেরার পর শুনি বিয়ে হয়েছে

সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি ও ফারজানা আফরোজের কথিত বিয়ে নিয়ে বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। বিয়ের দাবি অস্বীকার করে এবার ২০২৫ সালে থানায় করা একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) কপি প্রকাশ করেছেন রনি। এতে ২০২২ সালে চট্টগ্রামের একটি হোটেলে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ফারজানা আফরোজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে জিডির কপির পাশাপাশি কথিত বিয়ের তালাকনামার ছবিও প্রকাশ করেন সাবেক এই সংসদ সদস্য।

২০২৫ সালের ২৯ জুন নিউমার্কেট থানায় জমা দেওয়া জিডির আবেদনে রনি দাবি করেন, ২০২২ সালের ৫ মে কাজের প্রয়োজনে চট্টগ্রামে গিয়ে হোটেল রেডিসনে অবস্থান করছিলেন তিনি। এ সময় পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে ফারজানা আফরোজ তার মা, ছেলেমেয়ে এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৯ থেকে ১০ জনকে নিয়ে হোটেলের কক্ষে প্রবেশ করেন।

রনির দাবি, সেখানে তাদের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয় এবং ছবিও তোলা হয়। এরপর কী ঘটেছিল, তা তার মনে নেই। পরে জ্ঞান ফিরে নিজেকে হোটেলকক্ষে অস্বাভাবিক অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি ফারজানার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, তাদের বিয়ে হয়ে গেছে এবং কলমা-কাবিনের মাধ্যমে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

জিডিতে রনি আরও উল্লেখ করেন, এমন পরিস্থিতিতে হতভম্ব হয়ে কৌশলে হোটেল ছেড়ে ঢাকায় ফিরে আসেন তিনি। এরপর থেকে ফারজানা বিভিন্নভাবে তাকে চাপ ও হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ তাঁর।

রনির অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের রমজান মাসে ফারজানা তার সন্তানদের নিয়ে সাভারের অরুণাপল্লীতে নির্মাণাধীন একটি বাড়িতে ওঠেন। সেখানে প্রতিবেশীদের কাছে নিজেকে রনির দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। পরে ওই বাড়ি লিখে দেওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

জিডির বর্ণনায় রনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি ফারজানাকে বাড়ি ছেড়ে দিতে এবং বিয়ের কাবিননামা দেখাতে বলেন। ফারজানা বাড়ি ছেড়ে গেলেও কাবিননামা না দেখিয়ে দেনমোহর বাবদ ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। সামাজিক সম্মানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি ওই অর্থ পরিশোধ করেন বলে দাবি করেছেন রনি।

এ বিরোধের জের ধরে পরবর্তী সময়ে ফারজানা কয়েকবার সন্তানদের নিয়ে তার অফিসে যান বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তালাকসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও দরকষাকষি হয়। তবে কাবিননামার প্রমাণ না দিয়ে তাকে সম্মানহানির হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন রনি।

জিডিতে ২০২৫ সালের ২৮ জুনের একটি ঘটনার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। রনির দাবি, ওই দিন বিকেল তিনটার দিকে তিনি অফিসে থাকা অবস্থায় ফারজানা তার কক্ষে প্রবেশ করে অশালীন আচরণ শুরু করেন। অসুস্থ অবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে শাহবাগ থানা থেকে পুলিশ গিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে ফারজানাকে অফিস থেকে বের করে দেয়।

রনির দাবি, ওই সময় পুলিশ ফারজানার কাছ থেকে বিয়ের কাবিননামার কোনো অনুলিপি সংগ্রহ করতে পারেনি। পরে বাসায় যাওয়ার কথা বলে তিনি পুলিশের সঙ্গে না গিয়ে ধানমন্ডিতে রনির বাসায় চলে যান। এরপর নিউমার্কেট থানার কর্মকর্তারা দুই পক্ষের বক্তব্য শোনেন এবং ফারজানার কাছ থেকে কথিত কাবিননামার একটি অনুলিপি সংগ্রহ করেন। ওই নথির একটি কপি তিনিও পেয়েছেন বলে জিডিতে উল্লেখ করেন রনি।

কথিত কাবিননামার তথ্য নিয়েও আপত্তি তুলেছেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। তার অভিযোগ, নথিতে ফারজানার বৈবাহিক অবস্থা অবিবাহিত উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও তিনি আগে বিবাহিত ছিলেন। এ ছাড়া রনির দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি নথিতে উল্লেখ না করা এবং প্রথম স্ত্রীর অনুমতিপত্র না থাকার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এসব বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানিয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে রনি আরও দাবি করেন, আইনজীবীদের পরামর্শে কথিত বিয়ের কাবিনের ভিত্তিতে তালাকের নোটিশ পাঠান। পাশাপাশি দেনমোহরের ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তালাকের প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও নিবন্ধনের পর ফারজানা তার দাবিকৃত অর্থ বুঝে পেয়েছেন।

এর আগে গত ৫ নভেম্বর ফারজানা আফরোজ তাদের বিয়ের কাবিননামা প্রকাশ করেন। ওই নথিতে ২০২২ সালের ১৩ মে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার তারিখ উল্লেখ রয়েছে। ফারজানার দাবি, গোলাম মাওলা রনি তাকে বিয়ে করেছিলেন এবং তার শাশুড়িও কয়েক মাস তার সঙ্গে ছিলেন।