
ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে দৈনিক সমকালের মাল্টিমিডিয়া প্রতিবেদক রবিউল ইসলাম রাজুকে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাংবাদিক রাজুর প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাঁর পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নুরুল হক নুরের আলোচিত ‘শেখ হাসিনার ৯০ শতাংশ পতন হয়ে গেছে, ১০ শতাংশ ধাক্কা দাও’ বক্তব্যটি ধারণ ও প্রচারে রাজুর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন রাশেদ খাঁন।
পোস্টে তিনি স্মৃতিচারণা করে জানান, জুলাই আন্দোলনের সময় একদিন গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। ওই দিন নুরুল হক নুরকে আদালতে হাজির করার জন্য আনা হয়। বৃষ্টির কারণে অধিকাংশ সাংবাদিক আদালতের বারান্দায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় পুলিশ নুরুল হক নুরকে লিফটে তোলার প্রস্তুতি নিলে সমকালের মাল্টিমিডিয়া প্রতিবেদক রবিউল ইসলাম রাজু তাঁকে প্রশ্ন করেন, ‘নুর ভাই, আন্দোলন তো বন্ধ হয়ে গেছে, আপনার কোনো বার্তা আছে?’
জবাবে নুরুল হক নুর বলেন, ‘শেখ হাসিনার ৯০ শতাংশ পতন হয়ে গেছে, ১০ শতাংশ ধাক্কা দাও।’ রাজু ওই বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন। সমকালের ফেসবুক পেজে প্রকাশের পরপরই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও ভিডিওটি প্রচারিত হয়।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, ওই বক্তব্য আন্দোলনকারীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা, সাহস ও দিকনির্দেশনা তৈরি করেছিল। গণঅভ্যুত্থানের সময় এটি ছিল অন্যতম সাহসী ও তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য। তবে বক্তব্যটি কীভাবে সামনে এসেছিল, সেই নেপথ্যের গল্প অনেকেরই জানা নেই। আর সেই গল্পের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সাংবাদিক রাজু।
রাজুর ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে রাশেদ খাঁন লেখেন, তিনি অত্যন্ত অমায়িক ও ভালো ছেলে। তাঁকে কখনো রাগতে দেখেননি। পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে শুরু করে কথাবার্তা ও আচরণ—সবকিছুতেই তিনি পরিপাটি ও মার্জিত।
রাজুর শারীরিক প্রতিবন্ধকতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, জন্মগতভাবে তাঁর এক হাতে ত্রুটি রয়েছে। তবে এটি কখনো তাঁর কাজের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। বরং অনেক স্বাভাবিক মানুষের চেয়েও তাঁর ক্যামেরা পরিচালনা ও ভিডিও সম্পাদনার দক্ষতা ভালো। তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের সাফল্যও কামনা করেন রাশেদ।
পোস্টের শেষাংশে রাজুকে অপদস্থ করার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, যেভাবে তাঁকে দোষারোপ করে হেনস্তা করা হয়েছে, তা নিন্দনীয়। এ ঘটনায় তিনি রাজুর পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রসঙ্গত, বোট ক্লাবে ভাঙচুর, ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন চিত্রনায়িকা পরীমনি।
আদালতের শুনানি শেষে বের হওয়ার সময় একজন তাঁকে ‘ব্যাড টাচ’ করেছেন বলে অভিযোগ করেন পরীমনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি এক সাংবাদিককে উদ্দেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরাও সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন বলে জানা গেছে।








































