
জামায়াতের সঙ্গে জোট থেকে বের হয়ে স্বতন্ত্র রাজনীতি করার প্রাথমিক সিদ্ধান্তের জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) সাধুবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি মনে করেন, স্বতন্ত্রভাবে রাজনীতি করতে পারলে আগামী এক বছরের মধ্যে এনসিপি বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। এমনকি আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে দলটির।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন রাশেদ খান। এনসিপির সাম্প্রতিক গণবিক্ষোভ কর্মসূচি ও দলটির নেতাদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি জামায়াতের সঙ্গে জোট থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়ে দলটির অবস্থান স্পষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান লেখেন, ‘জামায়াত থেকে বের হয়ে আসার প্রাথমিক সিদ্ধান্তের জন্য এনসিপিকে সাধুবাদ জানাই। এনসিপির ভাই ব্রাদারদের কেউ কেউ জানিয়েছে, এখনই ঘোষণা না দিলেও একপ্রকার পিসফুল ডিভোর্সের মত শীঘ্রই জামায়াত জোট থেকে বের হয়ে আসবে এনসিপি। আজকে এনসিপির গণবিক্ষোভ কর্মসূচি ও আসিফ মাহমুদের বক্তব্য শুনে সেটি আরও পরিষ্কার হলো।’
এনসিপির গণবিক্ষোভ কর্মসূচিতে ৩১ অক্টোবরের লংমার্চের পক্ষে তেমন বক্তব্য শোনা যায়নি উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘এই গণবিক্ষোভ থেকে ৩১ অক্টোবরের লংমার্চের পক্ষে তেমন কারও বক্তব্য চোখে পড়েনি। ইতিবাচক দিক হলো, অনেক দিন পর এনসিপির আজকের গণবিক্ষোভে কয়েক হাজার লোক হয়েছে। জামায়াতের সাথে জোট করার পর থেকে এনসিপির কর্মসূচিগুলোতে খুব বেশি লোক হচ্ছিলো না। সেই জায়গায় দীর্ঘ সময় পরে হাজারের উপরে লোকের উপস্থিতি এনসিপির স্বতন্ত্র রাজনীতির জন্য আশা জাগানিয়া।’
স্বতন্ত্রভাবে রাজনীতি চালিয়ে গেলে এনসিপির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে রাশেদ খান বলেন, ‘এভাবে স্বতন্ত্র রাজনীতি করতে পারলে আগামী এক বছরের মধ্যে হয়তো এনসিপি একটি বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে। এবং আওয়ামী শূন্যতা পূরণে সক্ষম হবে।’
আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘এভাবে কাজ করতে থাকলে হয়তো আগামী জাতীয় নির্বাচনেও প্রধান বিরোধীদল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। সেই স্বপ্নের কথা এনসিপি বারবার বলে আসছিল। কিন্তু জামায়াতের পকেটে থেকে তো আর প্রধান বিরোধীদল হওয়া যাবে না। এই উপলব্ধি এনসিপির অনেকের মধ্যে প্রবল হওয়ায় আজকের এই স্বতন্ত্র কর্মসূচি।’
তবে এনসিপির স্বতন্ত্র রাজনীতির পথে দলটির আটজন সংসদ সদস্য বাধা হতে পারেন বলে মনে করেন রাশেদ খান। এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘তবে এনসিপির স্বতন্ত্র রাজনীতির পথে বড় বাধা এনসিপির ৮ জন এমপি। তারা আগামী বারও জামায়াতের ভোটে এমপি হতে জোটের রাজনীতি ধরে রাখতে মরিয়া। তবে এনসিপির অধিকাংশ স্বতন্ত্র রাজনীতির পক্ষে। দেখা যাক প্রাথমিক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়, নাকি জামায়াতের পকেট সংগঠন হিসেবে থেকে যায় এনসিপি। পরিশেষে, এনসিপির স্বতন্ত্র রাজনীতির প্রতি শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইলো।’










































