প্রচ্ছদ জাতীয় পুলিশ রেইড হবে না’ গ্যারান্টি দিয়ে ডাকা হয় তরুণ-তরুণীদের

পুলিশ রেইড হবে না’ গ্যারান্টি দিয়ে ডাকা হয় তরুণ-তরুণীদের

পুলিশ রেইড হবে না—এমন আশ্বাস দিয়ে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট-সংলগ্ন পুলিশ অফিসার্স হাউজিং-১ এলাকায় অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের বাড়িতে ডাকা হয়েছিল তরুণ-তরুণীদের। গত ১৯ অক্টোবর রাতে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৮৫ জনকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও জরিমানা করে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

এ ঘটনার পর বাড়ির মালিক অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরকে ওএসডি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তার পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না। অপরাধের ভিত্তিতেই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিবির অভিযানের পর রহস্যময় ওই পার্টির আমন্ত্রণের একটি খুদেবার্তা সামনে এসেছে। সে বার্তায় বলা হয়, এটি একটি ব্যক্তিগত রেভ পার্টি (নাচ-গানের নৈশকালীন পার্টি) এবং বাড়িটি পুলিশের একজন ডিআইজির মালিকানাধীন হওয়ায় অভিযানের কোনো আশঙ্কা নেই।

বার্তায় আরো বলা হয়, নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত থাকবেন। এভাবেই নির্ভয় দিয়ে ডাকা হয়েছিল অংশগ্রহণকারীদের। সেখানে একটি জন্মদিনের পার্টির কথা বলে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল বাড়িটি।

অভিযানে অংশ নেওয়া ডিবির কয়েকজন কর্মকর্তার দাবি, বাড়িটিতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ছিল। তাদের ধারণা, অভিযানের আগেই অনেকে মাদক সেবন করেন। কেউ কেউ টয়লেটে ফ্লাশ করে মাদক ফেলে দেন, আবার রাতের অন্ধকারে মাদক সরিয়ে ফেলার ঘটনাও ঘটে থাকতে পারে।

ডিবি সূত্রের দাবি, ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের নির্দেশনার পরই বাড়িটিতে অভিযান চালানো হয়। ঘটনাস্থল ভাটারা থানা এলাকায় এবং ডিবির গুলশান বিভাগের আওতাধীন হলেও অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবির উত্তরা বিভাগকে।

সূত্র আরো জানায়, গত ১৯ অক্টোবর রাত ১টার দিকে উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবীরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জরুরি ভিত্তিতে ডিবি কার্যালয়ে ডাকা হয়। তবে কোথায় অভিযান হবে, কীসের অভিযান এবং কাদের আটক করতে হবে, সে বিষয়ে আভিযানিক দলের সদস্যদের আগে থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

রাত আড়াইটার পর অভিযান শুরু হয়। ডিবির উত্তরা বিভাগের দলটি বাড়িতে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থানে নারী-পুরুষের অবস্থান, নাচ-গান ও মাদক সেবনের দৃশ্য দেখতে পায়। বাড়িটির উঠানে কেউ নাচছিলেন, কেউ তামাকজাতীয় দ্রব্য সেবন করছিলেন। উপরের কক্ষগুলোতেও নারী-পুরুষের অবস্থান ছিল। পুরো বাড়িতে মাদকের ধোঁয়া ছড়িয়েছিল।

অভিযানে অংশ নেওয়া ডিবির কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য, বাড়িটিতে ইয়াবার পরিমাণ ছিল অনেক। তাদের ধারণা, পুলিশ পৌঁছানোর আগেই উপস্থিত ব্যক্তিদের অনেকে ইয়াবা সেবন করেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, অভিযানের সময় টয়লেটে ইয়াবার কয়েকটি প্যাকেটও তাদের চোখে পড়ে। এছাড়া গাঁজা, কুশ এবং সিসার মতো ধোঁয়া টেনে সেবন করা হয়—এমন সরঞ্জামও সেখানে ছিল বলে তারা জানান।

অভিযানের পর প্রকাশিত তথ্য ও বিস্তারিত জব্দ তালিকার বিবরণে পার্থক্য দেখা যায়। ২০ অক্টোবর প্রাথমিকভাবে পুলিশ আইস, ইয়াবা, গাঁজা, মদ, বিয়ার ও সিসাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধারের কথা বলে।

অভিযানের খবর জানাজানি হওয়ার পর আটকদের ছাড়িয়ে নিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ফোনে তদবির করেন। প্রয়োজন হলে এসব ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ডিবির উত্তরা বিভাগের ডিসি ইলিয়াস কবীরের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। আটকদের যাচাই-বাছাইসহ অভিযান-পরবর্তী কার্যক্রম শেষ করতে মঙ্গলবার সকাল ৭টা পর্যন্ত সময় লাগে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পরে আটকদের পূর্বাচলে এপিবিএন কার্যালয়ের পাশে ডিএমপির অস্থায়ী মোবাইল কোর্ট কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৫৯ পুরুষকে ৩০ দিনের কারাদণ্ড ও ১,০০০ টাকা করে জরিমানা এবং ২৬ নারীকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। অভিযানের পর ডিবি পুলিশ আর এ বিষয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ দেখায়নি।

Google News Icon
আমার দেশের খবর পেতে গুগল