প্রচ্ছদ জাতীয় আসিফ মাহমুদের বিষয়ে দুদকের অবস্থান বদল কর্মকর্তা বললেন, ‘মুখ ফসকে বলে ফেলেছি’

আসিফ মাহমুদের বিষয়ে দুদকের অবস্থান বদল কর্মকর্তা বললেন, ‘মুখ ফসকে বলে ফেলেছি’

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে পদোন্নতি, বদলি-বাণিজ্য, পদায়নসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া গেছে বলে দুদকের পক্ষ থেকে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল, সেটি ভুল করে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুদকের মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ব্রিফিংয়ে কথা বলতে গিয়ে সম্ভবত ‘প্রাথমিক সত্যতা’ শব্দ বলে ফেলেছি। প্রথমিক সত্যতা শব্দটি না ব্যবহার করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।

এর আগে দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে দুদক জানায়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে তার মন্ত্রণালয়ে বদলি-বাণিজ্য, নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ অনুসন্ধান করা হবে।

অভিযোগে আসিফ মাহমুদের সাথে আরও তিনজনের নাম রয়েছে। তারা হলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং যুব-১ শাখার উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।

দুদকে দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়ন আদেশের মাধ্যমে ৭৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য দেড় কোটি টাকা এবং পদোন্নতির পর পছন্দের স্থানে পদায়নের জন্য আরও প্রায় দুই কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয় ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছিল। ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন টেন্ডার, কেনাকাটা ও অন্যান্য কার্যক্রমে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য কমিশন চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করেছে। দলের নেতৃত্ব দেবেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালাম। দলের অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক মো. নাছরুল্লাহ হোসাইন এবং উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন ও রোমান উদ্দিন।

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের জন্য এই অনুসন্ধান দল কাজ করবে।