
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান সমকালীন রাজনীতি নিয়ে কথা বলেছেন গণমাধ্যমের সঙ্গে। জানালেন, কত বছর বয়সে তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন।
সাক্ষাৎকারের শুরুতেই উপস্থাপক আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদের বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হঠাৎ করে একটি ছবি আলোচনায় চলে এসেছে- আপনি (ফজলুর রহমান) দেখেছেন কিনা আমি জানি না; বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ সাহেবের খুবই অসুস্থ অবস্থার একটি ছবি- যেখানে বলা হচ্ছে তিনি এখন আর সেন্সে নেই। তিনি বার্ধক্যজনিত এবং নানা রোগে আক্রান্ত। তার বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা নতুন জারি হয়েছে। এটা অনেকেই আলোচনায় এনেছেন- এ রকম একটা মানুষকে ঠিক এ সময়ে এটা কেন। আপনার কি মনে হয়- এগুলোর আসলে শেষ হবে কীভাবে। এটা কি খুব ইতিবাচক দিক হবে নাকি এগুলো আসলে মানুষের জনমনে একটা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন।
ফজলুর রহমান বলেন, ২০১৪ সালের পর থেকে ২৪ পর্যন্ত তোফায়েল আহমদ সরকারের কোনো কিছুতেই ছিলেন না শুধু একজন এমপি ছাড়া। তিনি গুরুত্বপূর্ণ কোনো এমপি ছিলেন না, কারণ শেখ হাসিনা তাকে কোনো গুরুত্ব দেননি। সিনিয়রদের কোনো গুরুত্ব দেননি- আমির হোসেন আমুসহ কাউকে না; এমনকি মোহাম্মদ নাসিম কেও কোনো গুরুত্ব দেননি।
তিনি বলেন, তোফায়েল আহমদের মতো লোক এখন তো মৃত্যুশয্যায় বলেও তো কম বলা হবে। তিনি তো মৃত; কিছুই বুঝেন না তিনি। স্ত্রী মারা যাচ্ছে তিনি হাসছেন। এই মানুষটার নামে ওয়ারেন্ট হবে- এটা একটা দেশ; কেন হবে। আর ওয়ারেন্ট হলে তাকে ধরতে হবে- কেন?। আমি খুব ক্লিয়ারলি বলি- হইতে পারে আমার নামে অনেক কিছু; রাশেদ খান মেনন এতদিন জেল খাটবে কেন। তাকে কেন জামিন দেওয়া হবে না। কী অপরাধ রাশেদ খান মেননের। ৮৫ বছর বয়সের একজন লোক- যার নামে ছাত্র সংগঠন ছিল মেনন গ্রুপ-মতিয়া গ্রুপ। সেই ১৯৬২ সাল থেকে যারা দেশের জন্য সবকছু উজার করে দিয়ে গেছেন। কেন ৮৫/৮৭ বছর বয়সে জেল কাটতে হবে মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ খান মেননকে যারা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ যারা বানাইছে- কী অপরাধ। রাশেদ খান মেননদের মতো কত ভালো লোক রাজনীতিতে আছে বাইরে, কয়জন আছে?
এই নেতা আরও বলেন, আমির হোসেন আমুর বয়স ৮৯ বছর। তিনি একজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন। মুজিব বাহিনীর ফোর লিডার বলে আসলে তো পেছনে আরও দুইজন লিডার ছিলেন। একজন হলেন কাজী আরিফ আহমদ আরেকজন হল আমির হোসেন আমু। সেই আমির হোসেন ৮৯ বছর বয়সে মৃত্যুশয্যায় জেল কাটতে হবে? তাদের জামিন দিলে কী হয়? অপরাধ হইলে ফাঁসি দিয়ে দাও।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা যারা জেলে আছেন- তারা যে দলেরই হোক তাদের জামিন দাও। জামিন তাদের পাওনা। আমি এটা খুব ক্লিয়ারলি বলব। তা না হলে- দেখেন পশ্চিম থেকে কিন্তু একটা বাতাস আসতেছে।
‘আপনি বাতাস সম্পর্কে কি বুঝাতে চেয়েছেন’ উত্তরে তিনি বলেন, মমতা ব্যানার্জীর তো ১৫ বছর। একদম অপ্রতিহতভাবে পশ্চিম বাংলার শাসন ক্ষমতায় ছিলেন। তার একটা নীতি ছিল একটা আদর্শ ছিল। এখন যারা আসতে তারা কিন্তু কেন্দ্রের প্রতিনিধি। মমতার কিন্তু কোনো কেন্দ্র ছিল না। ইন্ডিভিজুয়াল- দুর্বলতাটা তার এখানেই। এখন দেখেন কালকে থেকেই আর্মি নামতে হইছে রাস্তায়- খুনাখুনি। তিনজন মারা গেছে।
তিনি বলেন, এই যে অবস্থা চলছে- এটা তো গ্লোবাল পলিটিক্স। পশ্চিম বাংলায় যেটা হইছে আমার এখানে এফেক্ট পড়বে না এখানে- আমি বলছি সেইটা?
তিনি বলেন, খুব সাবধান! খুব কন্ট্রাডিকশন করে পলিটিক্স কিন্তু করা যাবে না।
তিনি বলেন, আজকে আমি আপনাকে বলি; শেখ হাসিনাসহ যারা কুকর্ম করেছে- আমি অমানুষ-পশু বলে এদের যে কত বকাবকি করেছি। কী শাস্তি ফেসিস্টদের হওয়া উচিত- আজকে যদিও বলছি মুক্তিযোদ্ধাদের ছেড়ে দেন-জামিন দেন অন্তত।
তিনি বলেন, সেই ১৫ বছর যারা এ অত্যাচার করছেন- আনিসুল হককে বারবার বলছি; এই আনিসুল হক- তুমি কিন্তু সিরাজুল হকের ছেলে। তোমার সিরাজুল হক বাবা কিন্তু এ দেশের প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর বন্ধু ছিল। সাবধান আনিসুল হক- তুমি কিন্তু পলিটিক্স করো নাই। এই ওবায়দুল কাদের- আমি কিন্তু বারবার বলছি। আমার কথাগুলো ঠিক হইছে না বেঠিক হইছে- এখন দেখেন। আনিসুল হকের জন্য কে কান্দে এখন। এখন তো নেংটা অবস্থায় ধরা পড়ছে সদরঘাটে বইসা।
তিনি বলেন, যারাই কঠিন কঠিন কথা বলত- মনে করত এই পৃথিবীতে আমার দিন আর যাবে না। সূর্য আর ডুববে না- তারা জানত না সূর্য কিন্তু ডুববে। আবার যারা সূর্য ডুবার পরে ক্ষমতায় আসবে তাদেরও মনে করা উচিত যে সূর্য কিন্তু আবার পূর্ব দিকে উঠবে। আমি কিন্তু আপনাকে বলি আমার বয়স ৭৮ বছর। এই সরকার যদি পাঁচ বছর থাকে তাইলে কত হবে বয়স- ৮৩। ৮৩ পরে আমি আর পলিটিক্স করব না। আল্লাহবিল্লাহ করব। আমি ওই সময় আর জেল খাটতে চাই না। কেন জেল খাটব আমি? আমার নাইনাতি, আমার নাতির ছেলে-পেলে থাকবে; আমি তাদের বাড়িতে রেখে জেলে থাকব। আমি এ কালচার-পলিটিক্যাল কালচার বাংলাদেশে চাই না।
সূত্র : যুগান্তর












































