
পটুয়াখালীতে হানি ট্র্যাপের ফাঁদ পেতে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ, ব্ল্যাকমেইল ও বিপুল পরিমাণ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে এক বিএনপি নেতা ও যুবলীগ কর্মীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাত থেকে বুধবার ভোররাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে এই চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ এবং সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের হাজিরহাট বন্দর এলাকার মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন। তিনি আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে আছেন। গ্রেপ্তার হওয়া অন্য দুজন হলেন গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের মো. আরশেদ আলীর ছেলে মো. কবির হোসেন এবং পটুয়াখালী পৌর শহরের কলেজ রোড এলাকার নুরুল হক তালুকদারের ছেলে মোহাম্মদ রাসেল তালুকদার। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত রাসেল তালুকদার সক্রিয়ভাবে যুবলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, এই চক্রটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হানি ট্র্যাপের ফাঁদ পেতে আসছিল। সম্প্রতি তারা এক ওষুধ ব্যবসায়ী এবং একজন চাকরিজীবীকে টার্গেট করে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রাপ্ত অভিযোগ অনুযায়ী, শহিদুল নামে এক ভুক্তভোগীকে কৌশলে ডেকে এনে নারীদের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় তাঁর ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে সেই আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই ব্যক্তির কাছে ১৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে চক্রটি। মান-সম্মানের ভয়ে একপর্যায়ে ওই ভুক্তভোগী তাদের প্রায় ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন।
ব্ল্যাকমেইলের এই বিষয়টি একপর্যায়ে স্থানীয় এলাকায় জানাজানি হয়ে গেলে পটুয়াখালীর বনানী এলাকায় অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আজহার উদ্দিনকে নিয়ে একটি সালিশ বৈঠক ডাকা হয়। ওই বৈঠকে উপস্থিত সবার সামনে তিনি ভুক্তভোগীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেন। তাঁর স্বীকারোক্তির পর উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে আটকে রেখে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য দুই সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
অভিযানের বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সাথে অভিযান চালিয়ে এই হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্যদের আটক করেছে। গ্রেপ্তারের সময় তাদের হেফাজত থেকে এই অপরাধের সাথে জড়িত থাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত এবং ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ উদ্ধার করা হয়েছে, যা মামলা তদন্তে বড় ভূমিকা রাখবে।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন যে, এই চক্রের অপরাধের পরিধি কেবল এই একটি ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে আরও কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে একইভাবে ব্লাকমেইল করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এই ঘটনায় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।










































