প্রচ্ছদ আর্ন্তজাতিক হাসিনার পরামর্শে মমতাকে হারিয়ে শুভেন্দুকে বসানো হয়েছে: কর্নেল অলি

হাসিনার পরামর্শে মমতাকে হারিয়ে শুভেন্দুকে বসানো হয়েছে: কর্নেল অলি

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, ‘দেশে এখন বৈদেশিক বিনিয়োগ আসছে না। বড় বড় বিনিয়োগ যেগুলো ছিল সেগুলোও চলে যেতে যাচ্ছে। সমস্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আপনারা কীভাবে সরকার সামাল দেবেন? পত্রিকার পাতা খুললেই খুন আর খুন। একজন চারজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে। এসব কেন হচ্ছে? মানুষের মনে শান্তি নাই। এজন্য সরকারই দায়ী।’

রোববার (১০ মে) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যে আয়োজিত ‘গণভোটের রায় জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির।

কর্নেল অলি বলেন, ‘গত কিছুদিন আগে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন হয়েছে। সেখানেও বাংলাদেশ থেকে দীক্ষিত হয়ে, হাসিনার পরামর্শ মতে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করে মমতাকে হারিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। নির্বাচনে জেতার পর থেকে সেখানে সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর নির্যাতন করা হচ্ছে। পত্র-পত্রিকায় দেখলাম গত দুই একদিনে সেখানে মুসলমানদের ৩৬০ টিরও বেশি দোকান, মসজিদ ভেঙে লুটপাট করেছে। আমরা ভারত সরকারকে বলব আপনারা গরুটাকে সামলান। ধর্মের লোকদের নিরাপত্তা দিন। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেন।’

কর্নেল অলি আরও বলেন, ‘শুভেন্দু মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে তার বিচার হওয়া উচিত। আপনারা শুধু বন্ধুত্বের কথা বলবেন আর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কাজ করবেন তা হতে পারে না।’

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আইন মানুষের উপকারের জন্য। এটা কোনো ধর্মীয় গ্রন্থ না। ৭০ শতাংশ মানুষ যা চায় তা মেনে নেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকতে হবে। এটা খুবই কঠিন। আপনারা তা করে দেখিয়েছেন। দেশের প্রয়োজনে আবার রক্ত দিতে হলে সেজন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী চাটুকারদের দ্বারা বেষ্টিত উল্লেখ করে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আপনি এসব বেষ্টনী থেকে বের হয়ে জনগণের ইচ্ছার প্রতি ফিরে আসেন। বেগম জিয়া ও জিয়াউর রহমানের মর্যাদা রক্ষা করুন। ইচ্ছা করলেই ক্ষমতায় থাকা যায় না। ক্ষমতায় থাকতে হলে নীতি-নৈতিকতা ও জনগণের সমর্থন প্রয়োজন হয়। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে আপনি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।’

এলডিপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে। আমি বলব প্রধানমন্ত্রীকে চিন্তা করতে হবে, তার দলের যে যাই করুক, দায় তাকেই নিতে হবে। দ্রব্যমূল্যের কারণে মানুষের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি হলে সরকার সেটি সামাল দিতে পারবে না। বিরোধী দলও আঙুল চুষবে না।’

জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী এমপি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এমপি, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন প্রমুখ।