
বহিষ্কার, বিতর্ক আর দলবদলের দীর্ঘ ইতিহাস পেরিয়ে ফের একবার মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নিজের একাধিপত্য প্রমাণ করলেন হুমায়ুন কবীর। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নওদা এবং রেজিনগর; দুই কেন্দ্র থেকেই নাটকীয় জয় ছিনিয়ে নিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) এই দাপুটে নেতা।
তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর যখন তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, ঠিক তখনই নিজের গড়া নতুন দলের হয়ে দুই কেন্দ্রে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি প্রমাণ করলেন যে, মুর্শিদাবাদের ভোট সমীকরণে এখনও তিনি এক অপরাজেয় শক্তি। নওদায় তৃণমূলের সাহিনা মুমতাজ এবং রেজিনগরে আতাউর রহমানকে পরাজিত করে বিধানসভায় নিজের জায়গা নিশ্চিত করেছেন তিনি। তার এই সাফল্যের পর জেলা জুড়ে অনুগামীদের উন্মাদনা তুঙ্গে, উঠেছে ‘মুর্শিদাবাদের নবাব’ স্লোগান।
হুমায়ুনের এই জয়ের পথ অবশ্য মোটেই মসৃণ ছিল না। গত ডিসেম্বরে ভরতপুরের বিধায়ক থাকাকালীন বাবরি মসজিদ গড়ার জিদ এবং দলীয় অবস্থানের বিরুদ্ধে যাওয়ার অভিযোগে তাঁকে বহিষ্কার করেছিল তৃণমূল। এরপরই মমতা ব্যানার্জিকে ‘শিক্ষা দিতে’ কোমর বেঁধে ময়দানে নামেন তিনি। ভোট ব্যাংককে পাখির চোখ করে সরাসরি ধর্মের কার্ড খেলেছেন কবীর। সমালোচকরা যখন তাঁর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অভিযোগ তুলেছেন, তখন তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, পাল্টা মেরুকরণের রাজনীতিতেই তিনি বিশ্বাসী। নির্বাচনে নিজের দলের প্রার্থীদের প্রায় দেড়শো আসনে দাঁড় করালেও একমাত্র অধিনায়ক হিসেবে তিনিই সাফল্যের মুখ দেখেছেন। তবে এই জয়ের মাঝেও কাঁটা হয়ে বিঁধে আছে নির্বাচনের ঠিক আগে ভাইরাল হওয়া সেই ‘স্টিং ভিডিও’।
তৃণমূলের তরফে প্রকাশিত ওই ভিডিয়োতে বিজেপি-র সঙ্গে হাজার কোটি টাকার ডিল এবং উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়ার যে তত্ত্ব উঠে এসেছিল, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল কম হয়নি। যদিও সেই ভিডিয়োকে কারসাজি বলে উড়িয়ে দিয়েও পরে কবীর স্বীকার করেছিলেন যে ভিডিওটি অসম্পূর্ণ। এই বিতর্কের জেরে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মিম তাঁর সঙ্গে জোট ছিন্ন করলেও ভোটের ময়দানে তার বিশেষ প্রভাব পড়েনি।












































