প্রচ্ছদ জাতীয় ছাত্রদলের দুই পক্ষের উত্তেজনা, ১৪৪ ধারা জারি

ছাত্রদলের দুই পক্ষের উত্তেজনা, ১৪৪ ধারা জারি

রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় জেলা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। সোমবার (৪ মে) অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই বিধিনিষেধ ঘোষণা করা হয়।

জানা গেছে, সম্প্রতি ঘোষিত জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিকে কেন্দ্র করে পদবঞ্চিত ও সংক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। সোমবার সকাল থেকে কমিটির বিরোধী পক্ষ এবং তাদের সমর্থকরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শহরের বনরূপা ও কাঠালতলী এলাকায় মারমুখী অবস্থানে নেয়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়।

প্রশাসনের জারিকৃত আদেশে বলা হয়েছে, রাঙ্গামাটি জেলার কোতোয়ালি থানাধীন রাঙ্গামাটি পৌরসভা, কাঠালতলী এলাকা, বনরূপা ও আশপাশ এলাকায় একটি ছাত্র সংগঠনের পদ বঞ্চিত ও সংক্ষুব্ধ নেতা কর্মী ও তাদের সমর্থকরা লাঠিসোঠা ও দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে মারমুখী হয়ে অবস্থান করছেন। উল্লিখিত স্থানে শান্তি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা রয়েছে; সেহেতু রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা বজায় রাখার লক্ষ্যে আমি নিশাত শারমিন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা, ‘ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮’ এর ১৪৪ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার কোতোয়ালি থানাধীন রাঙ্গামাটি পৌরসভা, কাঠালতলী এলাকা, বনরূপা ও আশপাশ এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যবৃন্দ ব্যতীত অন্য কোনও অননুমোদিত ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করলাম। উক্ত এলাকার ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে কোন প্রকার মিছিল, সভা/সমাবেশ ও যেকোনো প্রকার শব্দ বিবর্ধক যন্ত্র ইত্যাদি বাজানো সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলাম। উক্ত এলাকায় সড়কে চলাচলকারী ব্যক্তি ও যানবাহন এ আদেশের আওতাভুক্ত থাকবে। আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাঙ্গামাটি কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, সংঘর্ষ এড়াতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

প্রসঙ্গত, রাঙামাটিতে জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটি বাতিলের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে দলটির একাংশের নেতা-কর্মীরা। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা শহরের কাঁঠালতলি এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। পরে বেলা দুইটার দিকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।

এর আগে শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। ২৩ সদস্যের এ আংশিক কমিটিতে মো. অলি আহাদকে সভাপতি ও নাঈমুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ৩০ দিনের মধ্যে এ কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ করার জন্য কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

এ কমিটি ঘোষণার পরপরই বিক্ষুব্ধ সংগঠনটির জেলা শাখার একাংশের নেতা-কর্মীরা। তাদের দাবি, কমিটির নতুন সভাপতি মো. অলি আহাদ রাঙামাটির সাজেকে তিন পর্যটককে অপহরণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদকের নামেও মাদকের মামলা রয়েছে। তাই এ কমিটি বাতিল করতে হবে। রোববার দিবাগত রাত ১২টার মধ্যে কমিটি বাতিল করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হয়।