প্রচ্ছদ আর্ন্তজাতিক সকালেই আরও বাড়লো তেলের দাম

সকালেই আরও বাড়লো তেলের দাম

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সংকট কাটাতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগ ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণা করলেও বৈশ্বিক তেলবাজারে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। বরং চলমান সরবরাহ সংকট ও আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উচ্চ অবস্থানেই রয়েছে।

সোমবার (৪ মে) সকাল আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড বা অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮.২৫ ডলারে দাঁড়ায়, যা আগের দিনের তুলনায় ০.০৮ শতাংশ বেড়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণায় বাজারে আস্থা ফেরেনি, কারণ হরমুজ প্রণালির জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।

রোববার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, সোমবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে চলাচলে সহায়তা করবে। ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামের এ উদ্যোগের আওতায় কী ধরনের সামরিক বা নৌ সহায়তা থাকবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

অন্যদিকে, ইরান স্পষ্টভাবে এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে। দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো মার্কিন হস্তক্ষেপ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।

এদিকে সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাত উপকূলে একটি তেলবাহী জাহাজে অজ্ঞাত হামলার খবর দিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামরিক কর্তৃপক্ষ। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের উপকূলের কাছেও একটি পণ্যবাহী জাহাজ ছোট নৌযানের হামলার মুখে পড়ে। তবে উভয় ঘটনায় কোনো নাবিক হতাহত হয়নি।সংবাদ পরিবেশন

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের পরিকল্পনা মূলত আটকে পড়া জাহাজ ও নাবিকদের উদ্ধারে সহায়ক হলেও, হরমুজে স্বাভাবিক জ্বালানি সরবরাহ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তা যথেষ্ট নয়।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক তেলবাজার বিশ্লেষক জুন গোহ বলেন, বৈশ্বিক তেলের মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে এবং সরবরাহ ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। তার মতে, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক পরিবহন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে আরও বড় নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

বর্তমানে ইরানের হুমকি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় ব্যাপকভাবে কমে গেছে। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (ইউএনসিটিএডি) তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে ১২৯টি জাহাজ এ পথ অতিক্রম করলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ২০টিতে।

গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাবে, হরমুজ প্রণালির কার্যত অচলাবস্থা ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার কারণে বৈশ্বিক দৈনিক তেল উৎপাদন ১ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল কমে গেছে।