প্রচ্ছদ জাতীয় রগ কাটার অভিযোগের মাঝে ‘নফস কাটার’ ধারণা সামনে আনলেন এক মা

রগ কাটার অভিযোগের মাঝে ‘নফস কাটার’ ধারণা সামনে আনলেন এক মা

উনি ছোট পুত্র Abrar Been Taj. মরহুম Taj Uddin Ahmed Taj এর কলিজার টুকরা। এবার তিনি মাইলস্টোন স্কুলের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি ৭ম শ্রেণিতে থাকতেই শিবিরের সাথী শপথ নিয়েছেন। আজ একাই সকালে আমার ডাকাডাকি ছাড়া ইউনিফর্ম পরে নিজের রুম থেকে বের হলো! বললাম খাওয়ার টেবিলে যাও, নাস্তা দিচ্ছি। তিনি বললেন, আমি রোজা রেখেছি। আর তুমি বসো, নাস্তা করে ঔষধ খেয়ে চা খাও। টেবিলে গিয়ে দেখি- কত চমৎকার করে ফ্রাইড রাইস করেছে! ৮ মিনিটে করা ডিম সিদ্ধও আছে। ইন্ডাকশন প্যানেলের উপরে সিরামিক প্যানের লিড উঠিয়ে দেখি চিনি ছাড়া গাঢ় লিকারের লোভনীয় দুধ চা! তার এই আয়োজন দেখে আমার তো চোখছানাবড়া!

– রাতে ঘুমাসনি?
– না!
– কেনো?
– পড়াশোনা করেছি। রোজা রাখবো, তাই আর ঘুমাইনি।
– আমাকে বলিসনি কেনো রোজা রাখবি? আমিও রোজা রাখতাম।
– তুমি অসুস্থ, এখন রোজা রাখার দরকার নাই। আর তোমাকে বললে আমার জন্য জেগে থাকবে, এই জন্য বলিনি।
– আজ রবিবার, রোজার রাখার দরকার নাই। আয়, নাস্তা খেয়ে স্কুলে যা। কাল সোমবার, একসাথে রোজা রাখবো।
– না, আজ থেকেই ৪টা রোজা রাখবো।
– আজ থেকেই কেনো?
– গত পরশু Hm Maharab Hossain ভাইয়ারা (রগকাটা শিবিরের থানা সভাপতি) এলেন না? বলেছেন কাফফারা হিসেবে এই সাপ্তাহই ৪ টা রোজা রাখতে।
– কিসের কাফফারা?
– রিপোর্ট যে রাখি নাই, তাই।

আমি চুপ হয়ে গেলাম। সাড়ে সাতটায় সে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। আমি দরজায় দাঁড়িয়ে দেখলাম, সে লিফ্ট কল করে দাঁড়িয়ে আছে। লিফ্টে ঢুকে গেলো। আমি মনে মনে বললাম, কাফফারা হিসেবে রোজা! একদম ঠিকাছে!

বিকালে তার জন্য ইফতার আয়োজন করছিলাম। তিনি চুল কাটিয়ে এলেন। কিচেনে গিয়ে বললেন- চুল কাটা কেমন হয়েছে? বললাম, ঘুরে দেখা। হুম, চুল কাটানো ভালো হয়েছে। হ্যাঁ, বলবাইতো! বেল করা বাকি রেখেছি। আমি হেসে ফেলাম।

গোসল করে এসে আস্তে করে বললো, মেহরাব ভাইয়া বলেছেন সাদাকাও করা লাগবে!
– কি সাদাকা করবি?
– টাকা বা খাবারদাবার।
– টাকা কোথায় পাবি?
– বলছে টিফিন বা পকেট মানি থেকে দিতে!

আচ্ছা যা, আমিই দিবো। দাঁত বের করে একগাল প্রচ্ছন্ন হাসি হাসলো!

আহা শিবির! কিসের রগ কাটস? হাতেপায়ের? ঘাড়ের নাকি নফসের?