
আদালতের আদেশে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাকে বৈধ ঘোষণা করেছেন। এতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হওয়ার পথ তার জন্য সুগম হলেও জটিলতা এখনো কাটেনি।
জোট ও দলের অন্য নেত্রী মনিরা শারমিনের রিটই এই জটিলতার প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, আদালতের আদেশে নুসরাতের মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়েছে এবং তিনি বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হয়েছেন।
আদালতের আদেশে বৈধ হওয়ায় তার ক্ষেত্রে আপিল বা প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয় প্রযোজ্য হবে না। কারণ, একই তফসিলের মধ্যে এ আদেশ এসেছে এবং তার জন্য নতুন করে কোনো তফসিল জারি হয়নি।
তফসিল অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল, নিষ্পত্তি, প্রার্থিতা প্রত্যাহার, নির্বাচিত ঘোষণা এবং অন্য ৪৯ জনের গেজেট প্রকাশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তাই নুসরাতের ক্ষেত্রে এখন কেবল একটি ধাপ বাকি রয়েছে, বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ।
এরপর তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে এবং পরবর্তীতে বেসরকারি ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করবে কমিশন।
আইন অনুযায়ী, বাছাইয়ের পরের দিন বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করতে হয়। সে অনুযায়ী রোববার (০৩ মে) তালিকাটি প্রকাশ করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এরপর তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্টরা মনিরা শারমিনের রিটের বিষয়ে আদালতের আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান।
ইসির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানান, মনিরা শারমিন তার মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পর আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করলেও কৃষি ব্যাংকে প্রায় দুই বছর চাকরি করেছেন। তিন বছর পূর্ণ না হলেও তিনি বেতন-ভাতা সরকারকে ফেরত দিয়েছেন। এছাড়া তিনি নিম্নপদে কর্মরত থাকায় প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ ছিল না—এ বিষয়গুলো আদালত বিবেচনায় নিতে পারেন। আদালত যদি নুসরাতের মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন, অথবা মনিরার মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দেন, তাহলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। এমনকি ভোটগ্রহণের নির্দেশনাও আসতে পারে, এ সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
জানা গেছে, মনিরা শারমিনের আপিল আবেদনের শুনানি রোববার (০৩ মে) হতে পারে। তাই অন্তত ওই সময় পর্যন্ত আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দীন খান বলেন, আইন অনুযায়ী নুসরাতের ক্ষেত্রে এখন কেবল বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ বাকি। রোববার তা করা হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হতে পারে এবং কমিশন গেজেট প্রকাশ করতে পারে। তবে মনিরা শারমিনের বিষয়ে আদালতের রায় কী আসে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।
ইসি কর্মকর্তারা আরও জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্বাচন সম্পন্ন করে ফলাফল ঘোষণা করতে পারেন। তবে কমিশন সেই ফলাফল গ্রহণ নাও করতে পারে, এই এখতিয়ার তাদের রয়েছে। আবার আদালত যদি ফলাফল বা কার্যক্রম স্থগিত করতে বলেন এবং মনিরার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন, সেক্ষেত্রে নুসরাতকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হলেও তা বাতিল হতে পারে। তখন ওই আসনে সরাসরি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং জামায়াত জোটের প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের মাধ্যমে একজনকে নির্বাচিত করা হবে।
গত ২১ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল। এ সময়ের মধ্যে বিএনপি জোট ৩৬টি, স্বতন্ত্র জোট একটি এবং জামায়াত জোট ১৩টি মনোনয়নপত্র দাখিল করে। তবে মনিরা শারমিন কৃষি ব্যাংক থেকে অবসরের তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল হতে পারে, এমন আলোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ১৯ মিনিট পর মনোনয়নপত্র দাখিল করেন এনসিপির আরেক নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম। নির্ধারিত সময় অতিক্রম করায় রিটার্নিং কর্মকর্তা তা গ্রহণ করেননি।
পরবর্তীতে ২৩ এপ্রিল বাছাইয়ে মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তিনি কমিশনে আপিল করলে তা খারিজ করা হয়। এরপর গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। তার শুনানি রোববার হওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে নুসরাত তাবাসসুম হাইকোর্টে রিট করলে আদালত তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী বাছাই সম্পন্ন করে তাকে বৈধ ঘোষণা করা হয়। ফলে তার পথ অনেকটাই পরিষ্কার মনে হলেও কিছু জটিলতা এখনো রয়ে গেছে বলে মনে করছেন ইসি কর্মকর্তারা।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আসন বণ্টন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন বিএনপি জোটকে ৩৬টি নারী আসন, জামায়াত জোটকে ১৩টি এবং স্বতন্ত্র জোটকে একটি আসন দেয়। ইতোমধ্যে জামায়াত জোটের এই একটি আসন ছাড়া বাকি ৪৯টি আসনের প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে এবং তাদের গেজেটও প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী রোববার (০৩ মে) রাতে তাদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।











































