
পশ্চিমবঙ্গে চলছে শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ। গত ২৩ এপ্রিল ছিল প্রথম ধাপের ভোট। বুধবার (২৯ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে দ্বিতীয় দফা অর্থাৎ শেষ ধাপের ভোট শুরু হয়েছে। চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
এই দফায় রাজ্যের ৭ জেলার মোট ১৪২টি বিধানসভা আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মোট ৪১ হাজার ভোট কেন্দ্রে ১ হাজার ৪৪৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হচ্ছে।
সম্পূর্ণ ভোট প্রক্রিয়া চলছে ‘ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন’ (ইভিএম) এর মাধ্যমে। এ দফায় নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানে যেমন রয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী দল বিজেপি।
তেমন কংগ্রেস, সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট জোট, আইএসএফ, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির মতো দলগুলির প্রার্থীরাও রয়েছেন। যদিও বেশিরভাগ আসনেই মূল লড়াই হবে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে। শেষ ধাপে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ কোটি ২১ লাখের কিছু বেশি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ কোটি ৬৪ লাখ, নারী ভোটার ১ কোটি ৫৭ লাখ, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৭৯২ জন।
তৃণমূলের উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ভবানীপুর), মন্ত্রী ও কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (কলকাতা বন্দর), মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (টালিগঞ্জ), মন্ত্রী শশী পাঁজা (শ্যামপুকুর), মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (চন্দননগর), মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (উত্তর দমদম), মন্ত্রী শোভন দেব চট্টোপাধ্যায় (বালিগঞ্জ), মন্ত্রী সুজিত বসু (বিধান নগর), মন্ত্রী রথীন ঘোষ (মধ্যমগ্রাম), অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় (বরানগর), অভিনেত্রী লাভলী বন্দ্যোপাধ্যায় (সোনারপুর দক্ষিণ), নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় (চৌরঙ্গী), অভিনেতা সোহম চট্টোপাধ্যায় (করিমপুর), পরিচালক রাজ চক্রবর্তী (ব্যারাকপুর) সহ প্রমুখ।
তেমন প্রধান বিরোধী দল বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর আসন ছাড়াও নজর থাকবে অভয়ার মা রত্না দেবের পানিহাটির আসনে। এ ছাড়াও বিশিষ্টদের মধ্যে রয়েছেন স্বপন দাশগুপ্ত (রাসবিহারী), অভিনেত্রী রূপা গাঙ্গুলী (সোনারপুর দক্ষিণ), পাপিয়া অধিকারী (টালিগঞ্জ), শর্বরী মুখার্জী (যাদবপুর), অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ (শ্যামপুর), অভিনেতা হিরন চ্যাটার্জি, সঙ্গীত শিল্পী অসীম সরকার (হরিণঘাটা) সহ একাধিক বিভিন্ন পেশার বিশিষ্টদের এই দফায় ভাগ্য নির্ধারণ হচ্ছে।
একইভাবে দক্ষিণ ২৪ পরগণার ভাঙ্গড় আসনের আইএসএফ প্রার্থী তথা ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকীর আসনের দিকেও সবার নজর থাকবে। এ ছাড়া বাম প্রার্থী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, দীপ্সিতা ধর, কলতান দাশগুপ্তদের পাশাপাশি যাদবপুরের গবেষক-ছাত্রী আফরিন বেগম শিল্পী সহ নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য।
এদিকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন এবার আটঘাট বেঁধে ময়দানে নেমেছে। ভোটের দিন অশান্তি এড়াতে নজিরবিহীন তৎপরতা দেখাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, প্রতিটি বুথ এবং স্পর্শকাতর এলাকায় বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আছে কুইক রেসপন্স টিম। যারা অশান্তির মাঠে মুহূর্তে পৌঁছে যাবে। মাঠে থাকছে বাংলার পুলিশ এবং ভিন রাজ্যের পুলিশ। রয়েছে ১১ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক। ইতোমধ্যে, ভোটে অশান্তি করতে পারে এমন ২ হাজার ৮০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
প্রথম দফার নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৯৩ শতাংশ। যা পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শেষ ধাপে ১০০ শতাংশ অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটদান হবে। আগামী ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ সহ আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরি—এই চার রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।













































