প্রচ্ছদ জাতীয় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত যতজন

বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত যতজন

নাটোরের লালপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার গোধড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে বিক্ষুব্ধরা প্রায় এক ঘণ্টা নাটোর-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে এবং একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১০নং কদিমচিলান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও নাটোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য দোহার সঙ্গে লালপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মজনু পাটোয়ারীর সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

কয়েকদিন আগে চেয়ারম্যান প্রার্থী দোহার সমর্থক হাসান নামের এক যুবক মজনুকে নিয়ে ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। বুধবার রাতে স্থানীয় বাজারে মজনু বিষয়টি নিয়ে হাসানকে প্রশ্ন করলে, হাসান ভিডিওটি মিথ্যা বলে স্বীকারোক্তি দেন। কিন্তু পরদিন বৃহস্পতিবার হাসান লালপুর থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন, মজনু তাকে জোর করে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্তে আসে।

পুলিশ চলে যাওয়ার পর হাসান ও মজনুর মধ্যে আবারও কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের বড়াইগ্রাম উপজেলার গুনাইহাটি গ্রামের রাশেদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। তার আহত হওয়ার খবর নিজ গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে গুনাইহাটি এলাকার লোকজনও এসে সংঘর্ষে যোগ দেয়। পরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন।

ঘটনার এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা নাটোর-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় মজনু পাটোয়ারীর চাচাতো ভাই মোমিন পাটোয়ারীর একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ, ওয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়ি, বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্র এবং বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বড়াইগ্রাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুবায়ের জাহাঙ্গীর, বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম এবং লালপুর থানার ওসি (তদন্ত) এস এম সিরাজুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

সংঘর্ষে গুরুতর আহত রাশেদুল ইসলামকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে এবং পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।